ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ময়মনসিংহে সংঘর্ষের পর বিএনপির পাঁচ নেতা বহিষ্কার

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

নভেম্বর ১০, ২০২৫, ১২:২৪ এএম

ময়মনসিংহে সংঘর্ষের পর বিএনপির পাঁচ নেতা বহিষ্কার

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে দলীয় অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের জেরে বিএনপির পাঁচ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

রোববার রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরন, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম খোকন, সদস্য মাসুদ পারভেজ কার্জন, গৌরীপুর পৌর বিএনপির সদস্যসচিব সুজিত কুমার দাস এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান পলাশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সহকর্মীদের ওপর হামলা, সংঘর্ষ সৃষ্টি, ভাঙচুর ও রক্তপাত ঘটানোর কারণে তাদের বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

এর আগে শনিবার বিকেল থেকে গৌরীপুরে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম. ইকবাল হোসেইন এবং মনোনয়নবঞ্চিত আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরন–এর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পৌর শহরের পাটবাজার এলাকায় শুরু হওয়া সংঘর্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সড়কে। দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর চলে টানা এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে।

স্থানীয়রা জানান, বিকেলে উভয়পক্ষ পৃথক সভার আয়োজন করেছিল। নিজেদের সমর্থন প্রদর্শনের জন্য দু’দলই মিছিল নিয়ে বের হলে মুখোমুখি অবস্থানের সময় সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষের পরদিন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেইনের সমাবেশে অংশ নিয়ে তানজিন আহমেদ আবিদ (৩০) নামে এক ছাত্রদলকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

তবে স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, টানটান উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যা অনেকে শারীরিকভাবে সহ্য করতে পারেননি।

দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে মাঠ পর্যায়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গৌরীপুরে সংঘর্ষের পর দ্রুত তদন্ত করে কেন্দ্রীয় কমিটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।

এক জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দল এখন আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন অবস্থায় অভ্যন্তরীণ বিভাজন বা সহিংসতা সহ্য করা হবে না। গৌরীপুরের ঘটনায় এটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।

গৌরীপুরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো থমথমে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন যেকোনো অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করতে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং শান্তি–শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলীয় মনোনয়নকে ঘিরে তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা বিএনপির ভেতর বিভক্তি সৃষ্টি করছে।

সাবেক নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা আবদুস সালাম বলেন, মনোনয়ন বণ্টন সবসময়ই একটি সংবেদনশীল বিষয়। সুষ্ঠু যোগাযোগ ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি না থাকলে এটি সহজেই সংঘর্ষে রূপ নেয়।

গৌরীপুরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ এই সংঘর্ষ শুধু স্থানীয় রাজনীতিতেই নয়, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেও নতুন বার্তা দিয়েছে।

দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রীয় কমিটির দ্রুত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অন্য ইউনিটগুলোর জন্যও দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ইএইচ

Link copied!