বিবিসি বাংলা
নভেম্বর ২৬, ২০২৫, ০৩:১৩ পিএম
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের রায় তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রায় ঘোষণার পর থেকেই দলীয় নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা, আওয়ামী লীগের টিকে থাকা, এবং শেখ হাসিনার দেশে ফেরা সবই এখন জাতীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে প্রধান আলোচ্য বিষয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাব্বীর আহমেদ মনে করেন, এই রায় শেখ হাসিনার রাজনৈতিক যাত্রার কার্যত ইতি টেনেছে। তার ভাষায়, “আমি মনে করি না তিনি আগের অবস্থানে কখনো ফিরতে পারবেন। রাজনীতিতে ‘শেষ’ শব্দটি তাত্ত্বিকভাবে না থাকলেও নেতৃত্বের বড় ধরনের ভুলের পর ফিরে আসার সুযোগও খুব কম।”
অন্যদিকে, রায়কে ‘রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত’ এবং ‘ফরমায়েশি’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। মাঠপর্যায়ের অনেক নেতাই দাবি করছেন, রায়ে তাদের মধ্যে কোনো চাপ বা আতঙ্ক তৈরি হয়নি।
তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা হলো, আওয়ামী লীগ সভাপতির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা এখন দলের জন্য বড় ধাক্কা। দলীয় কিছু নেতার মতে, রায় মানতে না চাইলে যাই হোক, রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে এই রায়ের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের দাবি—গত এক বছরে নেতৃত্বের শূন্যতা কাটিয়ে সংগঠন আবার শক্তিশালী হচ্ছে, যদিও প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ। তাদের মতে, যোগাযোগ ও সাংগঠনিক কর্মযজ্ঞ এখন আরও সক্রিয় হয়েছে, যার পেছনে রয়েছে শেখ হাসিনার ভারত থেকে দেওয়া নির্দেশনা।
অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর আহ্বান জানালেও ভারত সে অনুরোধে সাড়া দেবে এমন সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। ফলে রায় কার্যকর হওয়ার নিকট ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে।
অন্যদিকে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশই এখনও দেশে ফিরতে পারবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় দলকে পুনর্গঠিত করা কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে, বিশেষত জুলাই আন্দোলনের সময় নিহতদের বিষয়ে দলীয় অবস্থান জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
অধ্যাপক সাব্বীর আহমেদ মনে করেন, শেখ হাসিনা যদি আন্দোলনের সময়ের প্রাণহানির জন্য রাজনৈতিক দায় স্বীকার করে দলীয় প্রধানের পদ ছাড়তেন, তাহলে দলটির টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকত। “এখন তিনি নিজেই দলকে আরও কঠিন পথে ঠেলে দিচ্ছেন,” বলেন তিনি।
দলে কেউ বিচ্ছিন্ন না হলেও দীর্ঘমেয়াদে আওয়ামী লীগের টিকে থাকা ও শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে ওঠার প্রশ্নে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
ইুএইচ