আমার সংবাদ ডেস্ক
জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি পথসভায় আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ভোট চাওয়ার ঘটনায় যুবদল নেতা নূর-ই-আজমকে শোকজ করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি।
গত সোমবার ঢাকায় গিয়ে তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে শোকজের জবাব দেন। পরে একই রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি। নূর-ই-আজম সখীপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
নূর-ই-আজম দাবি করেন, তিনি কোনো অভিনয় করেননি; মন থেকেই কথা বলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে যে নেতিবাচক মন্তব্যগুলো করা হয়েছে, সেগুলো প্রতিপক্ষরা ভুয়া আইডি ব্যবহার করে করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সখীপুরে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে একটি নির্বাচনি পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে বিএনপি প্রার্থীকে বাবা বলে আবেগপ্রবণ হয়ে কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নূর-ই-আজম। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। এরপরই দলীয়ভাবে তাকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়।
গত ২৪ জানুয়ারি বিকেলে সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের খুইংগারচালা এলাকায় বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের নির্বাচনি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে নূর-ই-আজম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি আহমেদ আযম খানকে নিজের রাজনৈতিক ‘বাবা’ হিসেবে উল্লেখ করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ভোট চাওয়ার সেই কান্নাকাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই তার এমন আবেগ প্রকাশকে ‘অভিনয়’ বলে মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নূর-ই-আজম বলেন, শোকজ এবং ভিডিওতে করা মন্তব্যগুলো অত্যন্ত দুঃখজনক। আমার নামে ১১টি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে, কয়েকবার জেল খেটেছি। আমি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সভাপতি ছিলাম। আমি অভিনয় করে কোনো বক্তব্য দিইনি, যা বলেছি সব মন থেকেই বলেছি। তিনি আরও বলেন, ভিডিওতে নেতিবাচক মন্তব্যগুলো প্রতিপক্ষরা ভুয়া আইডি ব্যবহার করে করেছে। তারপরও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে আমি নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছি।
এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরহাদ ইকবাল বলেন, নূর-ই-আজমের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। মূলত প্রতিপক্ষের লোকজন ভুয়া আইডি ব্যবহার করে ওই ভিডিওতে অধিকহারে নেতিবাচক মন্তব্য করে। এসব বিষয় কেন্দ্রীয় কমিটির নজরে আসায় সম্ভবত তাকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পরে কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশ অনুযায়ী নূর-ই-আজম ফেসবুকের মাধ্যমে ভিডিও বার্তায় নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
ইএইচ