নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। তবে এবারের নির্বাচনে জনসেবার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে প্রার্থীদের বিপুল বৈভব। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৯৯৪ প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ২৬ জন শতকোটিপতি এবং ৮৯১ জন কোটিপতি প্রার্থী রয়েছেন।
বিত্তের এই পাহাড়ে চড়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে শীর্ষ ১০ জনের সম্পদের খতিয়ান তুলে ধরা হলো-
আবদুল আউয়াল মিন্টু (ফেনী-৩): তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৬০৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে মিন্টুর একার সম্পদই ৫০৭ কোটি টাকার। তবে সম্পদের পাশাপাশি তাঁর ও তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নামে ২৮০ কোটি টাকা ব্যাংকঋণের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৪): দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির আলোচিত নেতা আসলাম চৌধুরী। তাঁর স্ত্রী ও কন্যার নামসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ৪৭৪ কোটি টাকা। বিপুল সম্পদের অধিকারী এই প্রার্থীর হলফনামায় ৩৪৫ কোটি টাকা ঋণের তথ্যও উঠে এসেছে।
ফখর উদ্দিন আহমেদ (ময়মনসিংহ-১১): এই তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ময়মনসিংহ-১১ আসনের বিএনপি প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ। ব্যবসায়ী এই প্রার্থীর মোট সম্পদের পরিমাণ ২৯৯ কোটি টাকা। তাঁর ব্যাংকঋণের পরিমাণ ১৫ কোটি টাকা।
জাকারিয়া তাহের (কুমিল্লা-৮): চতুর্থ স্থানে থাকা জাকারিয়া তাহের ও তাঁর স্ত্রীর সম্পদের মূল্য ২৯২ কোটি টাকা। তাঁর হলফনামার বিশেষত্ব হলো, বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর কোনো ব্যাংকঋণের তথ্য নেই।
শীর্ষ ১০ ধনীর তালিকায় ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়গা করে নিয়েছেন, যা প্রমাণ করে রাজনীতিতে ব্যবসায়িক সক্ষমতা কত বড় প্রভাবক হয়ে উঠছে।
সালাউদ্দিন আলমগীর (টাঙ্গাইল-৮): পঞ্চম স্থানে থাকা এই ব্যবসায়ীর মোট সম্পদ ২৮৩ কোটি টাকা। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বেশি বিত্তশালী।
এম এ এইচ সেলিম (বাগেরহাট-১, ২ ও ৩): ষষ্ঠ স্থানে থাকা সাবেক এই সংসদ সদস্য তিনটি আসনে লড়ছেন। তাঁর সম্পদের মূল্য ২৬২ কোটি টাকা।
মোহাম্মদ ফজলুল আজিম (নোয়াখালী-৬): ১৯০ কোটি টাকার সম্পদ নিয়ে তিনি নবম স্থানে অবস্থান করছেন।
সপ্তম স্থান: মো. জালাল উদ্দীন (চাঁদপুর-২, বিএনপি)। সম্পদ: ২৪৯ কোটি টাকা।
অষ্টম স্থান: গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (বগুড়া-৫, বিএনপি)। পরিবারসহ সম্পদ: ২০৪ কোটি টাকা।
দশম স্থান: মো. সফিকুর রহমান (শরীয়তপুর-২, বিএনপি)। সম্পদ: ১৮৫ কোটি টাকা। তাঁর ৪১ কোটি টাকার ব্যাংকঋণ রয়েছে।
টিআইবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের এই আধিক্য ভবিষ্যতে ‘স্বার্থের সংঘাত’ তৈরি করতে পারে। বিপুল সম্পদের পাশাপাশি বড় অঙ্কের ব্যাংকঋণ থাকায় নির্বাচিত হওয়ার পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে ঋণ মওকুফ বা ব্যবসায়িক সুবিধা নেওয়ার ঝুঁকি থাকে। সাধারণ ভোটারদের মনে এখন প্রশ্ন—ব্যালটে জনসেবা জিতবে নাকি অর্থের দাপট।
এএন