নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম
সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে না—এই দ্ব্যর্থহীন প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে দেশের সামরিক বাহিনীর মর্যাদা ও পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনার এক নতুন রূপরেখা তুলে ধরেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার রাতে রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে 'স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুদৃঢ় আস্থা' শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে দলের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দর্শন ব্যাখ্যা করেন।
অনুষ্ঠানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবার এবং সশস্ত্র বাহিনীর বিপুলসংখ্যক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে বিএনপি সেনাবাহিনীকে রাজনীতির আবর্তে ফেলবে না, বরং তাদের পেশাদারিত্বকে সর্বোচ্চ সম্মান দেবে।
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে সেনাবাহিনীর 'গৌরব' শব্দটিকে ভিন্ন মাত্রায় ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, আমি বলতে চাই না যে আমরা সেনাবাহিনীর হারানো গৌরব ফিরিয়ে দেব। কারণ গৌরব কোনো দান বা উপহার নয় যা কাউকে দেওয়া যায়। গৌরব হচ্ছে অর্জন ও ধারণ করার বিষয়। সেনাবাহিনীকেই তাদের গৌরব রক্ষা করতে হবে।
তিনি আরও যোগ করেন যে, সেনাবাহিনী অবশ্যই দেশ ও রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকবে, কিন্তু তাদের কোনোভাবেই দলীয় রাজনীতিতে বিলীন হওয়া চলবে না। পেশাদারিত্ব যেন রাজনীতির আড়ালে চাপা না পড়ে, সে বিষয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সেনাসদস্যদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহ ও সেনা হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন তারেক রহমান।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতির কথা জানান, বর্তমান 'বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ' (বিজিবি)-এর নাম পরিবর্তন করে পুনরায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত 'বাংলাদেশ রাইফেলস' বা বিডিআর করা হবে।
সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে 'শহীদ সেনা দিবস', 'সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস' অথবা 'জাতীয় শোক দিবস' হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি জানান, সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আসা ‘জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন’ এবং ‘সেনা আইনের সংস্কার’ সংক্রান্ত সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবি 'ওয়ান র্যাঙ্ক, ওয়ান পে' নীতি কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তারেক রহমান। তিনি জানান, এটি ইতিমধ্যে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ক্ষমতায় গেলে দ্রুততম সময়ে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন তারেক রহমান। তিনি স্মরণ করেন তাঁর শৈশবের দিনগুলো এবং তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়ার সেনাবাহিনীর প্রতি অগাধ আস্থার কথা। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী আমার কাছে একটি পরিবারের মতো। আমার মা সবসময় বিশ্বাস করতেন, দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য একটি শক্তিশালী ও আধুনিক সেনাবাহিনী অপরিহার্য।
১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তারেক রহমানের এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। বিশেষ করে বিডিআর বিদ্রোহের বিচার এবং সেনাবাহিনীর মর্যাদা রক্ষার এই ঘোষণা সামরিক ও বেসামরিক উভয় মহলে এক নতুন আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে।
এএন