ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

তারেক-শফিকুর বৈঠক: নির্বাচন-পরবর্তী সংঘাতমুক্ত রাজনীতির নতুন অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১২:০০ এএম

তারেক-শফিকুর বৈঠক: নির্বাচন-পরবর্তী সংঘাতমুক্ত রাজনীতির নতুন অঙ্গীকার

রাজনৈতিক ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় রচিত হলো রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই মেরুর শীর্ষ নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক থেকে উঠে এসেছে জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতার বার্তা। 

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি কেবল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং নির্বাচন-পরবর্তী সম্ভাব্য সহিংসতা রোধে একটি ‘লিখিত’ অঙ্গীকারের সমতুল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রোববার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জামায়াত আমিরের বাসভবনে যান। দীর্ঘ আলোচনার পর ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই বৈঠকের নির্যাস তুলে ধরেন, যেখানে উঠে এসেছে আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে তাদের যৌথ রূপকল্প।

বাংলাদেশের নির্বাচনের চিরাচরিত ইতিহাস হলো ভোট পরবর্তী সংঘাত। বিশেষ করে বিরোধী দলের নেতাকর্মী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা অতীতে বারবার জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এবারের বৈঠকে এই বিষয়টিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তাকে সুনির্দিষ্টভাবে আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্বাচনের পর কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা সহিংসতা সহ্য করা হবে না। 

বিশেষ করে কোনো অবস্থাতেই ধর্মীয় বা জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ হতে দেওয়া হবে না। দলের পক্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হবে যাতে কেউ আইনের বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেয়। ভয়ভীতিমুক্ত এক পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রধান লক্ষ্য।

জামায়াতে ইসলামীর আমির তার পোস্টে এক নতুন ধরণের রাজনৈতিক দর্শনের কথা ব্যক্ত করেছেন। তিনি পরিষ্কার করেছেন যে, সরকারে থাকা বা না থাকা বড় কথা নয়, বরং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

জামায়াতের অবস্থানের মূল ভিত্তিগুলো হলো সরকার জনকল্যাণমূলক কাজে লিপ্ত থাকলে জামায়াত পূর্ণ সমর্থন দেবে, কিন্তু বিচ্যুতি ঘটলে তারা হবে কঠোর সমালোচক।

শফিকুর রহমান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তাদের উদ্দেশ্য সরকারকে ‘বাধা দেওয়া’ নয়, বরং ভুল পথে গেলে ‘সংশোধন’ করা। একটি আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে তারা কোনো আপস করবে না।

বৈঠকের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল ডা. শফিকুর রহমান কর্তৃক তারেক রহমানকে দেওয়া ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মন্তব্যের মাধ্যমে ১১-দলীয় জোট এবং বিএনপির মধ্যেকার দূরত্ব ঘুচে গিয়ে একটি শক্তিশালী ঐক্যমত্যের প্রতিফলন ঘটেছে।

জামায়াত আমির তারেক রহমানের আগমণকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, বড় দলগুলোর মধ্যে এই সংলাপ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রদর্শনের সংস্কৃতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিপক্বতার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে একটি ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত, সার্বভৌম এবং ইনসাফ কায়েমকারী’ বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরেন। তিনি বর্তমানে ১১-দলীয় জোটের অংশ হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। 

এই জোটের মূল লক্ষ্য হলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধার করা। সাংবিধানিক শাসনের নিশ্চয়তা দেওয়া। একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা।

বসুন্ধরার এই বৈঠক এবং পরবর্তীতে জামায়াত আমিরের ফেসবুক পোস্টটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর দেশের বড় দুটি রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। বিশেষ করে তারেক রহমানের ‘সহিংসতা রোধের প্রতিশ্রুতি’ আন্তর্জাতিক মহলেও ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৈঠক শেষে ডা. শফিকুর রহমান তার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে লেখেন, ‘দেশের মানুষ এমন একটি সংসদ প্রত্যাশা করে, যা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে এবং রাষ্ট্রকে স্থিতিশীলতার সঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

২০২৬ সালের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান ও শফিকুর রহমানের এই বৈঠক বাংলাদেশের রাজনীতিতে মেরুকরণের চেয়েও বেশি ‘সহাবস্থানের’ বার্তা দিচ্ছে। যদি এই আশ্বাসগুলো বাস্তবে প্রতিফলিত হয়, তবে বাংলাদেশ হয়তো প্রথমবারের মতো একটি রক্তপাতহীন এবং স্থিতিশীল নির্বাচন-পরবর্তী অধ্যায়ে প্রবেশ করতে পারবে।

এএন

Link copied!