ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

অজু: পবিত্রতার দ্বার, ঈমানের সৌন্দর্য

ধর্ম ডেস্ক

ধর্ম ডেস্ক

নভেম্বর ১, ২০২৫, ১২:২৬ পিএম

অজু: পবিত্রতার দ্বার, ঈমানের সৌন্দর্য

ইসলাম ধর্মে পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, “পবিত্রতা হলো ঈমানের অর্ধেক।” (সহিহ মুসলিম) এই পবিত্রতার অন্যতম স্তম্ভ হলো অজু (ওজু)। নামাজ, তাওয়াফ, কোরআন স্পর্শ এসব ইবাদতের পূর্বশর্তই হলো অজু। এটি শুধু শারীরিক পরিচ্ছন্নতা নয়; বরং আত্মিক পরিশুদ্ধিরও এক অনন্য অনুশাসন। 

‘অজু’ শব্দটি আরবি 'ওজূ' (وضوء) থেকে এসেছে, যার অর্থ আলো ও সৌন্দর্য। অর্থাৎ, অজু মানুষকে যেমন বাহ্যিকভাবে পরিষ্কার করে, তেমনি আত্মাকে আলোকিত করে। 

নবী করিম (সা.) বলেছেন, “আমার উম্মতকে কিয়ামতের দিন অজুর চিহ্ন দ্বারা চেনা যাবে। তাদের হাত, পা ও মুখ থেকে নূরের আলো বের হবে।” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

অজু তাই শুধু ইবাদতের প্রস্তুতি নয়, বরং জান্নাতের পথে আলোর এক প্রতীক।

অজু বৈধ হতে হলে চারটি কাজ অবশ্যই করতে হয় (১) মুখ ধোয়া কান থেকে কান পর্যন্ত ও কপালের ওপরে থেকে থুতনি পর্যন্ত। (২) হাত ধোয়া কনুইসহ দুই হাত ভালোভাবে ধোয়া। (৩) মাথা মাসেহ করা ভেজা হাত দিয়ে মাথা মুছে নেওয়া। (৪) পা ধোয়া টাখনুসহ দুই পা ধোয়া। (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৬) এগুলো ছাড়া অজু সম্পূর্ণ হয় না।

ফরজের পাশাপাশি অজুর কিছু সুন্নত রয়েছে অজুর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা, হাত কবজি পর্যন্ত ধোয়া, মিসওয়াক করা, নাক ও মুখে পানি দেওয়া, প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধোয়া, ডান দিক আগে ধোয়া, শেষে দুয়া পাঠ করা। 

রাসুল (সা.) অজু শেষে বলতেন, “أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله” (সহিহ মুসলিম)। হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি এ দোয়া অজুর শেষে পাঠ করে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে যায়।

হাদীসে বর্ণিত “যে ব্যক্তি অজু করে হাত, মুখ ও পা ধোয়, তার অঙ্গ থেকে গুনাহ ঝরে পড়ে যেমন শরৎকালে গাছের পাতা ঝরে।” (সহিহ মুসলিম) 

অজু শুধু গুনাহ মোচনের উপায়ই নয়, বরং এটি আত্মিক প্রশান্তির উৎস। নিয়মিত অজু করলে মন থাকে সতেজ, হৃদয়ে জন্ম নেয় আল্লাহর স্মরণ।

অজু ভেঙে যায় প্রস্রাব, পায়খানা, গ্যাস নির্গমন বা রক্তপাত; গভীর ঘুম; পাগলামি বা অজ্ঞান হওয়া; যৌনসংক্রান্ত নির্গমন এসব কারণে। এগুলোর পর পুনরায় অজু করা ফরজ।

অজু শুধু নামাজের প্রস্তুতি নয়, এটি পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও আত্মশুদ্ধির প্রতীক। 

আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, দিনে একাধিকবার মুখ, হাত ও পা ধোয়ার অভ্যাস শরীরের জীবাণু দূর করে, রক্তসঞ্চালন ঠিক রাখে ও মনোসংযোগ বাড়ায়। 

অর্থাৎ, ইসলাম শুধু আত্মার নয়, শরীরেরও যত্ন নেয় আর অজু সেই যত্নের প্রথম ধাপ। অজু মানুষকে শেখায় শুদ্ধতা, ধৈর্য ও মনোযোগ। 

প্রতিবার অজু মানে পাপ থেকে দূরে সরে এক নতুন শুরুর প্রতিশ্রুতি। আল্লাহ তাআলা বলেন— “নিশ্চয়ই আল্লাহ ভালোবাসেন তাদেরকে, যারা বারবার তওবা করে এবং যারা পবিত্রতা বজায় রাখে।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২২২) তাই অজু শুধু নামাজের শর্ত নয়—এটি এক আলোকিত জীবনের প্রথম পদক্ষেপ।

ইএইচ

Link copied!