ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

বারবার ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ: কোচ-খেলোয়াড়দের দায় কোথায়?

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা

অক্টোবর ৩, ২০২৫, ০৩:২২ পিএম

বারবার ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ: কোচ-খেলোয়াড়দের দায় কোথায়?

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আবারও ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার। আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের হাতছানি ছিল। আফগানিস্তান প্রথমে ব্যাট করে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৫১ রান তুলেছিল। হাতে ২০ ওভার, লক্ষ্য ১৫২ রান। 

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এই লক্ষ্য বাংলাদেশের জন্য ছিল সহজ। বিশেষ করে উদ্বোধনী জুটিতে যখন ১০৯ রান উঠে যায়, তখন ম্যাচকে একতরফা মনে হচ্ছিল।

কিন্তু ১১.৪ ওভার থেকে ১৫.৪ ওভারের মধ্যে মাত্র ২৪ বলে ৯ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। তখন হঠাৎই খেলায় ফিরে আসে আফগানিস্তান। 

যদিও শেষ পর্যন্ত আফগানরা জয় ছিনিয়ে নিতে পারেনি, কিন্তু বাংলাদেশের এমন ধস আবারও তুলে ধরল এক বড় প্রশ্ন কেন বারবার একই ভুল করছে বাংলাদেশি ব্যাটাররা?

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক জাকের আলী বলেন, “এমন ব্যাটিং ধস হতেই পারে।” 

তবে তার এই মন্তব্য সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ক্রিকেট ভক্তরা বলছেন, ১০৯ রানের উদ্বোধনী জুটির পর মাত্র ৯ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারানো কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। এটা দলের কৌশলগত দুর্বলতা এবং মানসিক ভেঙে পড়ার স্পষ্ট উদাহরণ।

একজন ক্রিকেটপ্রেমী আবেগঘন কণ্ঠে বললেন, “আমরা বারবার টিভির সামনে বসি, আশা করি এবার বাংলাদেশ দারুণ খেলবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে সব ভেঙে পড়ে। আমাদের চোখের পানি নিয়েই মাঠ বা টিভির পর্দা ছেড়ে উঠতে হয়।”

এশিয়া কাপের হতাশা এখনো তাজা

এই ব্যাটিং ধসের দৃশ্য ভক্তদের মনে করিয়ে দেয় সাম্প্রতিক এশিয়া কাপের কথা। পাকিস্তানের বিপক্ষে সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে ফাইনালে যেতে হলে মাত্র ১৩৫ রান প্রয়োজন ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যেখানে ২০০ রানও তাড়া করে জেতা যায়, সেখানে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইনআপ ১৩৫ রানও করতে পারেনি। সেই ব্যর্থতায় ভেসে যায় ফাইনালে খেলার স্বপ্ন।

ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা কেবল এক ম্যাচ নয়—বরং দীর্ঘদিনের সমস্যার প্রতিফলন। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে বাংলাদেশ বারবার ভেঙে পড়ছে। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গেলেও মানসিকভাবে ব্যাটাররা চাপ সামলাতে পারছে না।

অন্যদের সঙ্গে তুলনা: ভারত-পাকিস্তানের উদাহরণ

এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ১৪৫ রান করেছিল। ভারতের ব্যাটাররাও শুরুতে বিপর্যয়ে পড়ে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শান্ত মাথায় খেলে ম্যাচ জিতে নেয়। আর সেটাই হলো আসল পার্থক্য।

ভারতীয় ব্যাটাররা দেখিয়েছে ব্যাটিং ধস এলেও কীভাবে ধৈর্য ধরে ম্যাচ বের করে আনতে হয়। সেখানে বাংলাদেশের ব্যাটাররা বারবার আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে, ঠান্ডা মাথায় খেলার পরিবর্তে হুড়োহুড়ি করে আউট হয়ে যায়।

দর্শক-ভক্তদের ক্ষোভ ও হতাশা

বাংলাদেশি দর্শকরা দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেটের এই এক চিত্র দেখছেন। এক ভক্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“বিশ্বের অন্যান্য দল যখন ব্যাটিং ধস থেকে দলকে জিতিয়ে আনে, আমরা তখন পুরোপুরি ভেঙে পড়ি। কোচ আর খেলোয়াড়রা আসলে মাঠে কী শেখেন? কেন বারবার একই ব্যর্থতা? আমাদের এত স্বপ্ন ভেঙে যায় কেন?”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। ক্রিকেটপ্রেমীরা প্রশ্ন তুলেছেন— দলের ব্যাটিং পরামর্শক, কোচ ও প্রশিক্ষকদের আসল কাজ কী? 

যদি বছর বছর একই দুর্বলতা থেকে যায়, তাহলে তাদের ভূমিকা কীসের?

বারবার ব্যাটিং ধস: সমস্যা কোথায়?

বিশ্লেষকরা বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের পেছনে কয়েকটি বড় কারণ চিহ্নিত করেছেন—

মানসিক দৃঢ়তার অভাব

বাংলাদেশি ব্যাটাররা ম্যাচে চাপ সামলাতে পারে না। সহজ লক্ষ্যও তাড়া করতে গিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।

টেকনিক্যাল সীমাবদ্ধতা

বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে সঠিক শট নির্বাচন ও ফিনিশিং দক্ষতার অভাব রয়েছে।

কোচিং দুর্বলতা

দলের কোচ ও প্রশিক্ষকরা বারবার ব্যর্থতা বিশ্লেষণ করলেও সমাধান দিতে পারছেন না। ব্যাটারদের মানসিক প্রস্তুতি ও ফিনিশিং কৌশল উন্নত করার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার ঘাটতি

মাঠে ব্যাটাররা বুঝতে পারে না কখন আক্রমণাত্মক হতে হবে আর কখন রক্ষণাত্মক হতে হবে। ফলে অযথা শট খেলতে গিয়ে উইকেট হারায়।

সিনিয়র খেলোয়াড়দের দায়িত্বহীনতা

বারবার দেখা যায়, ম্যাচে সিনিয়র ব্যাটাররা দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস শেষ করতে পারেন না। নতুনদের হাতে পুরো চাপ চলে যায়।

কোচ ও বোর্ডের প্রতি দাবি

বাংলাদেশি ক্রিকেটভক্তরা মনে করছেন, এ অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। একজন ভক্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও কোচিং স্টাফদের এখনই দেখতে হবে আসল সমস্যা কোথায়। শুধু সমালোচনা নয়, বাস্তবসম্মত সমাধান আনতে হবে। নইলে বারবার ব্যাটিং ধস বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দেবে।

তাদের মতে, ক্রিকেটারদের মানসিক দৃঢ়তা তৈরির জন্য বিশেষ কাউন্সেলিং, ব্যাটিং ফিনিশিং স্কিল উন্নত করার প্রশিক্ষণ এবং ম্যাচ পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল শেখানো এখন সময়ের দাবি।

বিশ্ব দরবারে মর্যাদা অর্জনের লড়াই

বাংলাদেশ ক্রিকেট একসময় ‘উইকেট বয়েস’ থেকে এখন টেস্ট খেলা দেশ। তবে সাম্প্রতিক ব্যাটিং ধসের কারণে বিশ্ব অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

যদি এই সমস্যার সমাধান না হয়, তবে বড় টুর্নামেন্টে সাফল্য আনা কঠিন হবে। অথচ বাংলাদেশের সম্ভাবনা আছে, প্রতিভা আছে, দর্শকের ভালোবাসা আছে। শুধু দরকার সঠিক কৌশল ও ধৈর্যশীল খেলা ঠান্ডা মাথায় জেতার কৌশলই একমাত্র সমাধান।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান সিরিজ এখনো বাংলাদেশের হাতে আছে। তবে জিততে হলে ঠান্ডা মাথায় খেলার বিকল্প নেই। যে কোনো ব্যাটিং ধস সামাল দিতে শিখতে হবে, ছোট লক্ষ্যকে বড় করে না তোলার কৌশল জানতে হবে।

ভারতের মতো দলগুলো দেখিয়েছে কীভাবে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামলাতে হয়। বাংলাদেশ যদি সেই শিক্ষা নিতে পারে, তবে ভবিষ্যতে বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে মর্যাদাশীল অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব।

এখনই সময় এসেছে বাংলাদেশ দলের কোচ, প্রশিক্ষক ও খেলোয়াড়দের আত্মসমালোচনা করার। ক্রিকেট ভক্তরা আর ব্যর্থতা দেখতে চান না, তারা দেখতে চান লড়াই, ধৈর্য, এবং জয়ের হাসি।

এইচআর/ইএইচ

Link copied!