স্পোর্টস ডেস্ক
জুন ১৮, ২০২৬, ০১:১৬ এএম
ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটে জোয়াও নেভেসের গোল। তখন মাঠের পরিস্থিতি দেখে মনে হয়েছিল, চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচেই বড় জয় পেতে যাচ্ছে পর্তুগাল। তবে মাঠের লড়াইয়ে আসল চমক তখনো বাকি ছিল। দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে ফেরা ডিআর কঙ্গো প্রথমার্ধের শেষ দিকেই সেই ইঙ্গিত দিয়ে দেয়। ইয়োনে উইসার দুর্দান্ত এক গোলে ম্যাচে সমতা টানে আফ্রিকার দেশটি। সেখান থেকে পর্তুগাল আর লিড নিতে পারেনি। ফলে কঙ্গোর বিপক্ষে পয়েন্ট ভাগাভাগির হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় পর্তুগিজদের। বিপরীতে বিশ্বমঞ্চে প্রথম পয়েন্ট পাওয়ার এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস গড়ল ডিআর কঙ্গো।
ম্যাচের প্রথমার্ধে শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় পর্তুগাল। ম্যাচের ৬ মিনিটে নেভেসের হেড থেকে গোল পেয়ে এগিয়ে যায় তারা। বাম দিক থেকে পেদ্রো নেতোর নিখুঁত ক্রসে নেভেস বল জালে পাঠিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোলের পরও পর্তুগাল বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও ডিআর কঙ্গো ধীরে ধীরে গুছিয়ে ওঠে। দলটির রক্ষণে অধিনায়ক চানসেল বেমবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং আক্রমণে উইসা কয়েকবার সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেন।
প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে ডিআর কঙ্গো একটি কর্নার আদায় করে। সেই কর্নার থেকেই আসে তাদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে ফার পোস্টে সম্পূর্ণ ফাঁকায় থাকা উইসা উঁচুতে লাফিয়ে শক্তিশালী হেডে গোল করেন। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে ডিআর কঙ্গোর প্রথম গোলটি আসে এবং স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১-১।
বিরতির পরও সমান আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে ডিআর কঙ্গো। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে সেদরিক বাকাম্বুর একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে, যদিও তার আগেই অফসাইডের বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি। অন্যদিকে পর্তুগাল একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি। ৫৬ মিনিটে জোয়াও ক্যান্সেলোর অসাধারণ এক ওভারহেড কিকে বল জালে গেলেও অফসাইডের কারণে সেই গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
ম্যাচের ৬৯ মিনিটে সবচেয়ে বড় সুযোগটি হাতছাড়া করেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তাঁর শটটি পোস্টের বাইরে চলে যায়। পুরো ম্যাচে বিবর্ণ থাকা পর্তুগিজ অধিনায়ক এরপরও কয়েকটি সুযোগ পেলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি।

শেষদিকে ডিআর কঙ্গোও পাল্টা আক্রমণে পর্তুগিজ রক্ষণে ভয় ধরিয়ে দেয়। ৭৮ মিনিটে বাকাম্বুর শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। আর যোগ করা সময়ে উইসাকে ফাউল করে থামাতে গিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন টমাস আরাউহো।
ম্যাচের একদম অন্তিম মুহূর্তে পর্তুগাল মরিয়া হয়ে জয়ের গোল খুঁজছিল। কিন্তু ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক দিমিত্রি বারটাউড এমপাসি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন। শেষ সময়ে কর্নার থেকেও কোনো সুবিধা করতে পারেনি পর্তুগাল। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই বিশ্বমঞ্চে প্রথম পয়েন্ট পাওয়ার উল্লাসে ফেটে পড়েন ডিআর কঙ্গোর খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা।
জেএইচআর