ক্রীড়া প্রতিবেদক
জুন ২২, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বড় দলের দাপট আর তারকাখচিত লড়াই। কিন্তু ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে সেই চেনা হিসাব উল্টে দিয়েছে আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্র কেপ ভার্দে। মাত্র প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দেশটি নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপেই গড়ছে একের পর এক বিস্ময়।
প্রথম ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে গোলশূন্য ড্র-তে আটকে দিয়ে আলোচনায় আসে কেপ ভার্দে। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে আরেক সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে তারা প্রমাণ করেছে, তাদের পারফরম্যান্স কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই সাহসী ফুটবল খেলেছে কেপ ভার্দে। প্রথমার্ধে এগিয়ে গেলেও পরে উরুগুয়ে দুই গোল করে ম্যাচে ফিরে আসে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আবারও সমতায় ফেরে আফ্রিকার এই দলটি। শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে উরুগুয়ে গোল করে হার এড়ালেও ২-২ ড্র কেপ ভার্দের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে।
টানা দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে রুখে দিয়ে এখন তারা গ্রুপ পর্ব থেকে নকআউটের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে।
ভৌগোলিকভাবে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের কাছে ১০টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত কেপ ভার্দের জনসংখ্যা মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে জনসংখ্যার দিক থেকে এটি তৃতীয় ক্ষুদ্রতম অংশগ্রহণকারী দেশ।
এর আগে আইসল্যান্ড (২০১৮) ও ত্রিনিদাদ ও টোবাগো (২০০৬) তুলনামূলক কম জনসংখ্যা নিয়ে বিশ্বকাপে খেলেছিল। কিন্তু শক্তিশালী ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিপক্ষে অপরাজিত থাকা কেপ ভার্দে এখন নতুন ইতিহাস লিখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সাফল্য হঠাৎ পাওয়া নয়। আধুনিক ট্যাকটিক্স, সংগঠিত রক্ষণভাগ এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকই তাদের প্রধান শক্তি।
ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলা প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তিও দলটিকে দিয়েছে বাড়তি শক্তি। পর্তুগাল, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসে খেলা একাধিক কেপ ভার্দে বংশোদ্ভূত ফুটবলার জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে মান বাড়িয়েছেন।
বিশ্বজুড়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, কেপ ভার্দের এই উত্থান প্রমাণ করছে-আধুনিক ফুটবলে নাম বা ইতিহাস নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিকল্পনা ও মানসিক দৃঢ়তা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যেই কেপ ভার্দেকে ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ এখন কেপ ভার্দের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জয় পেলেই নিশ্চিত হতে পারে নকআউট পর্ব।
মাত্র পাঁচ লাখ মানুষের এই দেশটি এখন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় গল্পগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে-যেখানে স্বপ্নই হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় শক্তি।
এম জি