স্পোর্টস ডেস্ক
জুলাই ৯, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
হারারের মাঠে আবারও ব্যাটিং ব্যর্থতার বৃত্তে আটকে গেল বাংলাদেশ। জয়ের জন্য ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাঝপথে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে শেষ পর্যন্ত ১৩ রানে হেরেছে সফরকারীরা। এই হারের ফলে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করল স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দলীয় মাত্র ১৩ রানে ব্লেসিং মুজারাবানির একটি বাউন্সারে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন সৌম্য সরকার। ১০ বলে মাত্র ৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই বাঁহাতি ওপেনার। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও সেই জুটি বড় হতে দেননি জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন। নিজের প্রথম ওভারেই শান্তকে (১৬ বলে ৯ রান) উইকেটরক্ষকের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি।
৩৮ রানে ২ উইকেট হারানোর পর এক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ ব্যাটিং করেন তানজিদ হাসান। ধৈর্য ও আক্রমণের মিশেলে ৭০ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন এই ওপেনার। তবে ফিফটির পর ইনিংসটি আর বড় করতে পারেননি। স্পিনার ব্রায়ান বেনেটের বলে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে ৫৭ রানে বোল্ড হন তিনি। তাঁর বিদায়ের মাধ্যমে ভেঙে যায় ৮৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ এক জুটি।
তানজিদের আউটের পর বাংলাদেশের ইনিংসে মড়ক ধরে। তাওহীদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান কিছুটা আশা জাগালেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মুজারাবানির বলে মিড-অনে ক্যাচ দিয়ে ৭ রান করে ফেরেন হৃদয়। এরপর মোসাদ্দেক হোসেনও রিচার্ড এনগারাভার বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ৭ রানেই বিদায় নেন।
অন্য প্রান্তে একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন নুরুল হাসান সোহান। কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারিতে বাংলাদেশের আশা বাঁচিয়ে রাখলেও এনগারাভার শর্ট বলে ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে বসেন তিনি (৪১ বলে ৩৮ রান)। সোহানের বিদায়ের পর বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়। শেষ দিকে মেহেদী হাসান মিরাজ ৩৩ বলে ২৭ রান করে লড়াই করলেও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারেননি। নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে ১৩ রান দূরেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তাসকিন আহমেদের তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ব্রায়ান বেনেটকে এবং তৃতীয় ওভারে ইনোসেন্ট কাইয়াকে সাজঘরে পাঠান তাসকিন। নবম ওভারে নাহিদ রানার গতিতে বোল্ড হন ক্রেইগ আরভিন। এরপর ওয়েসলি মাধেভেরে ১৫ রান করে ফিরলে ৬৬ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা।
সেই বিপর্যয় থেকে দলকে টেনে তোলেন বেন কারান ও সিকান্দার রাজা। রাজা ৩৩ রান করে মিরাজের শিকার হলেও এক প্রান্ত ধরে রাখেন কারান। মাঝে ক্লাইভ মাদান্দে দ্রুত ফিরলেও জিম্বাবুয়ের রান তোলার গতি কমেনি।
ইনিংসের শেষ ভাগে ব্র্যাড ইভান্সকে সঙ্গে নিয়ে সপ্তম উইকেটে দুর্দান্ত জুটি গড়েন কারান। ১২২ বলে শতক পূর্ণ করার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৩৩ বলে অপরাজিত ১১১ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন কারান। অন্য প্রান্তে ব্র্যাড ইভান্স মাত্র ৩৬ বলে অপরাজিত ৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৪৭ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ দুটি এবং নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজ একটি করে উইকেট নেন। ব্যাটিং ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তিতে টানা দুই ম্যাচ হেরে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ হাতছাড়া করল বাংলাদেশ। সফরের শেষ ম্যাচে এখন টাইগারদের সামনে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর চ্যালেঞ্জ।
জেএইচআর