ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
একজন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

মানবসেবার পথ থেকে রাষ্ট্রনেতৃত্বে

তানজিদ সরওয়ার

তানজিদ সরওয়ার

ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫, ১২:০২ এএম

মানবসেবার পথ থেকে রাষ্ট্রনেতৃত্বে
  • উন্নয়নচিন্তক থেকে নোবেলজয়ী

বাংলাদেশের আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাসে কিছু ব্যক্তির অধ্যায় সবসময়ই বিশেষ মর্যাদায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাদের কেউ রাজনৈতিক নেতৃত্বে এগিয়ে গেছেন, কেউ মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা রেখেছেন, কেউ শিল্প-সংস্কৃতির ধারক হিসেবে দেশের ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন। কিন্তু খুব কম মানুষই আছেন যাদের জীবন একই সঙ্গে অর্থনীতি, উন্নয়ন ধারণা, সামাজিক উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ধারায় উপনীত হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঠিক সেই বিরল নাম, যিনি একজন উন্নয়নচিন্তক থেকে নোবেলজয়ী, আর এখন সংকটকালীন জাতীয় মুহূর্তে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দেশের নেতৃত্বের দায়িত্বেও অবতীর্ণ হয়েছেন।

তার পথচলা কেবল একটি ব্যক্তির জীবনী নয়; এটি বাংলাদেশের উন্নয়নপর্ব, সামাজিক পরিবর্তন ও রাষ্ট্রচিন্তার ধারাবাহিক বিবর্তনের এক অনন্য আখ্যান। সেই আখ্যানের বিস্তার, প্রেক্ষাপট, সমালোচনা, প্রাপ্তি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে একটি সামগ্রিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো।

শৈশব, শিক্ষা ও দৃষ্টিভঙ্গির বীজ

১৯৪০ সালের ২৮ জুন চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুহাম্মদ ইউনূস। একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা হলেও তার পরিবার ছিল শিক্ষানুরাগী; বাবা হাজি দুলা মিয়া সওদাগর জুয়েলারি ব্যবসা পরিচালনা করতেন। চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর রউফাবাদ এলাকায় একটি স্বর্ণের গয়নার দোকান ছিল তার। এছাড়া চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ দিদার মার্কেটেও তার জুয়েলারি দোকান ছিল বলে জানা গেছে।

তিনি ছিলেন শিক্ষিত, শান্ত স্বভাবের, সৎ ও পরিশ্রমী একজন ব্যবসায়ী। মা ছিলেন সমাজবোধে সমৃদ্ধ গৃহিণী। চট্টগ্রামে প্রাথমিক-মাধ্যমিক শিক্ষা এবং পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়াশোনা তার মেধা ও আগ্রহকে দৃঢ় করে।

পরবর্তীতে ফুলব্রাইট স্কলারশিপে যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনীতিতে পিএইচডি অর্জন তার মানসিক দৃষ্টিকে আরও বিস্তৃত করে। আমেরিকার টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার সময়ই তিনি উপলব্ধি করেন, অর্থনীতি কেবল পাঠ্যবইয়ের তত্ত্বে সীমাবদ্ধ নয়; বাস্তব মানুষের জীবন পরিবর্তন করাই এ বিদ্যার উদ্দেশ্য। এই উপলব্ধিই পরে তার সমগ্র কাজের ভিত্তি হয়ে ওঠে।

১৯৭৫ সালে জাতীয় বিপর্যয়ের পর দেশে ফেরা ছিল তার জীবনের নতুন মোড়। স্বাধীন দেশের পুনর্গঠন, দারিদ্র্য মোকাবিলা, অর্থনৈতিক ভারসাম্য স্থাপন- এই সময় ছিল এক গভীর অস্থিরতার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি বুঝলেন, যুদ্ধোত্তর সময়ে হাজার হাজার মানুষের দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও বেকারত্ব কেবল সরকারি নীতির ওপর নির্ভর করে সমাধান সম্ভব নয়। দরকার নতুন চিন্তা, নতুন পদ্ধতি।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি দৃষ্টিপাত করলেন সমাজের প্রান্তিক মানুষ, বিশেষ করে নারীদের জীবনের দিকে, যারা অর্থনৈতিক কাঠামোর বাইরে, সুযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন। সেখানেই তিনি লক্ষ্য করেন ক্ষুদ্রঋণ মানুষের সম্ভাবনাকে উন্মোচিত করতে পারে। এই ধারণাই জন্ম দেয় গ্রামীণ ব্যাংকের।

গ্রামীণ ব্যাংকের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, অর্থনীতির নতুন স্কুল অফ থট: গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল অত্যন্ত সহজ, ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করা। কিন্তু ফলাফল তাদের প্রাথমিক স্বপ্নকে ছাড়িয়ে যায়। কয়েক দশকের মধ্যে গ্রামীণ মডেল হয়ে ওঠে দারিদ্র্যবিমোচনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত পদ্ধতি, যা অনুসরণ করেছে আফ্রিকা, এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকার বহু দেশ।

ড. ইউনূস বিশ্বকে দেখিয়েছেন যে, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন শুধু পুঁজির ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং আস্থার ওপর, সামাজিক সম্পর্কের ওপর এবং সমবায়ী উদ্যোগের ওপরও দাঁড়াতে পারে। গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতাদের ৯৫% নারী, যা নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। তাদের উদ্যোগে শুধু পরিবার বদলেছে না; বদলে গেছে গ্রাম-সমাজের কাঠামো।

নোবেল শান্তি পুরস্কার : ব্যক্তিগত অর্জন নয়, জাতির সম্মান: ২০০৬ সালে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়- এটি শান্তি পুরস্কার, অর্থনীতির নয়। কারণ তার কাজ ছিল অর্থনৈতিক হলেও লক্ষ্য ছিল সামাজিক শান্তি, স্থিতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন। এই ঘোষণায় নোবেল কমিটি বলেছিল- ‘একজন সাধারণ মানুষকেও যদি আর্থিক স্বাধীনতা দেয়া যায়, সে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে।’

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পরিচিতি, উন্নয়ন মডেল ও মানবিক চিন্তার বিস্তারে এই পুরস্কার ছিল এক নতুন দোরগোড়া। বিশ্বের নানা দেশে তার বক্তৃতা, পরামর্শদান ও ‘সোশ্যাল বিজনেস’ ধারণা বিশ্বব্যাপী সামাজিক উদ্যোক্তাদের পাঠ্যবইয়ে স্থান পায়।

সমালোচনা, দ্বন্দ্ব ও বিতর্ক : একটি নোবেলজয়ীর রাজনৈতিক পরীক্ষাগার: তবে ড. ইউনূসের পথ মোটেও বিতর্কমুক্ত ছিল না। দেশে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছে- অর্থনৈতিক অনিয়ম, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, প্রশাসনিক জটিলতাসহ নানা ইস্যুতে। তিনি বলেছেন, অধিকাংশ বিতর্ক ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার নোবেল স্বীকৃতি, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং স্বতন্ত্র অবস্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাকে একটি শক্তিশালী ‘অ-রাজনৈতিক’ চরিত্রে পরিণত করেছিল, যা ক্ষমতাকেন্দ্রিক বলয়ের জন্য অস্বস্তিকর ছিল বলেও অনেকে মনে করেন।

২০১১ সালের সময়কালে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনায় হস্তক্ষেপ, পদচ্যুতি, তদন্ত্ত এসব বিতর্ক তার জীবনে এক চাপের সময় সৃষ্টি করে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহল তাকে সমর্থন জানায় এবং বাংলাদেশের সুশীল সমাজও তার প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান নেয়। এই অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক দর্শনকে আরও প্রখর করে। রাষ্ট্রচিন্তা, শাসনব্যবস্থা, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার সম্পর্কে তিনি আরও দৃঢ় অবস্থানে পৌঁছান।

রাজনৈতিক সংকটের মুহূর্তে রাষ্ট্রনেতৃত্বের দায়িত্ব: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৫ সাল বিশেষ ঘটনাবহুল। রাজপথের আন্দোলন, সরকারের পতন, প্রশাসনিক ভাঙন ও গণবিক্ষোভের মধ্যে মধ্যবর্তী দায়িত্ব পালনের ভার এসে পড়ে একটি নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যক্তির ওপর। সেই প্রেক্ষাপটে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়।

একজন নোবেলজয়ী উন্নয়ন তাত্ত্বিক থেকে জাতীয় নেতৃত্বের ভূমিকায় উঠে আসা মানবসভ্যতার ইতিহাসেও বিরল ঘটনা। বাংলাদেশের জন্যও এটি ছিল এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত।

তার দায়িত্ব গ্রহণের তাৎপর্য

ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে নৈতিক নেতৃত্ব : দেশ রাজনৈতিক উত্তাপ ও প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে থাকায় জনগণের আস্থা ফিরে পেতে নৈতিক নেতৃত্ব জরুরি ছিল। ড. ইউনূসের গ্রহণযোগ্যতা সেই শূন্যতা পূরণ করে।

অরাজনৈতিক পরিচিতি : তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন, অতএব সংঘাতময় রাজনীতিতে তার নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি।

আন্তর্জাতিক আস্থা : উন্নয়ন বিশ্বের পরিচিত মুখ হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সহজেই এই নেতৃত্বকে সমর্থন জানায়।

সমাজ-অর্থনীতিক দৃষ্টিভঙ্গি : ক্ষুদ্রঋণ, নারীনেতৃত্ব, সামাজিক ব্যবসা- এসব চিন্তা রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

সামাজিক ব্যবসা থেকে রাষ্ট্রীয় সংস্কার, দর্শনের সংযোগ কোথায়

ড. ইউনূসের সোশ্যাল বিজনেস ধারণাই প্রকৃতপক্ষে তার রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তিনি মনে করেন, লাভ নয়, সামাজিক মঙ্গলই যেকোনো প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হওয়া উচিত। রাষ্ট্রকে এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে হবে যেখানে প্রতিটি মানুষ তার নিজের সম্ভাবনা বাস্তবায়ন করতে পারে।

উন্নয়নে নারীকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

প্রযুক্তি ও মানবিকতা মিলিয়ে নতুন প্রজন্মকে অর্থনৈতিক পরিবর্তনের নেতৃত্বে আনতে হবে। এই চিন্তাগুলো রাষ্ট্রীয় নীতিতে প্রয়োগ হলে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন দৃষ্টি তৈরি হতে পারে।

সমালোচনার জায়গা : অরাজনৈতিক ব্যক্তি কীভাবে রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করবেন?

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সমালোচনা রয়েছে যে তিনি বাস্তবে রাজনীতির কৌশল, সংঘাত ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নন। একজন উন্নয়নচিন্তক হিসেবে তার শক্তি নৈতিকতা, মানবিকতা ও নীতি কিন্তু রাজনীতি নীতি-নির্দেশনা ছাড়াও কঠোর বাস্তবতার। তার বিরোধীরা মনে করেন, নৈতিক নেতৃত্ব যথেষ্ট নয়; দরকার শক্তিশালী প্রশাসনিক দক্ষতা।

দেশ পরিচালনায় রাজনৈতিক গতিবিধি, দলগুলোর স্বার্থ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি- এসব তিনি কতটা সামলাতে পারবেন তা সময়ই বলে দেবে। তবুও সংকট মুহূর্তে নীতিনিষ্ঠ, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ ব্যক্তিকে নেতৃত্বে আনা আন্তর্জাতিকভাবে সফল মডেল। তার উদাহরণ আছে গ্রিস, ইতালি, স্লোভেনিয়া, প্রিজটিনা, চিলিতে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, ইউনূসের নেতৃত্বে কোন পথে

এখন প্রশ্ন- বাংলাদেশ কোন পথ ধরবে? ড. ইউনূসের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে—

শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা : রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব কমাতে আলোচনাভিত্তিক সমাধান জরুরি, এটি তিনি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন।

নির্বাচন ব্যবস্থার পুনর্গঠন : গণতন্ত্রের ভিত্তি স্বচ্ছ নির্বাচন। তার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন ও প্রক্রিয়ার সংস্কার জাতীয় অগ্রাধিকার হবে।

আর্থসামাজিক পুনর্গঠন : মাইক্রোক্রেডিট-মডেল, সামাজিক উদ্যোক্তা এবং নারীনেতৃত্ব- এসবকে রাষ্ট্রীয় নীতিতে সংযুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ : তিনি বহুবার বলেছেন, দুর্নীতি উন্নয়নের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক। তার প্রশাসনের একটি বড় লক্ষ্য হবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।

আন্তর্জাতিক যোগাযোগ পুনর্গঠন : বিনিয়োগকারী এবং উন্নয়ন অংশীদারদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা তার আরেকটি প্রধান চ্যালেঞ্জ।

ইতিহাসের বাঁকে দাঁড়ানো এক মানুষ

ড. মুহাম্মদ ইউনূস শুধু একজন অর্থনীতিবিদ নন; তিনি একজন চিন্তক, মানবিক দৃষ্টিসম্পন্ন উদ্যোক্তা এবং লক্ষ-কোটি মানুষের উন্নয়নে অবদান রাখা এক দূরদৃষ্টি। তার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় বাংলাদেশের ইতিহাসকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা আজ বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। ওই সাক্ষাতে ড. ইউনূস ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। রাজনৈতিক অঙ্গনে সেই বক্তব্যকে তখন অনেকেই সম্ভাবনার কথা হিসেবে দেখলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটিই সত্য প্রমাণিত হলো।

গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়েছে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়সূচির মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার স্পষ্ট বার্তা দেয়া হয়েছে।

এই তফসিল ঘোষণার রাজনৈতিক তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত জনগণের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা আবারও জোরালো হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো এখন নির্বাচনি প্রস্তুতিতে মনোযোগী হচ্ছে, পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের দায়িত্ব আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকেই যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা- এই তফসিল ঘোষণা তারই বাস্তব প্রতিফলন। এখন দেশের মানুষের প্রত্যাশা একটাই, ঘোষিত সময়ে একটি অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় যেন শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়।

আজ যখন তিনি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা, তখন তার জন্য এটি কেবল একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; এটি তার দীর্ঘ মানবসেবামূলক যাত্রার এবং একই সঙ্গে এক নতুন জাতীয় দায়িত্বের সূচনা। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ইতিহাস তাকে কোন স্থানে বসাবে তা  সময়ই বলে দেবে, তবে এটুকু স্পষ্ট, আমাদের সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ও প্রভাবশালী বাঙালিদের সারিতে তার স্থান চিরস্থায়ী।

Link copied!