ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

মজুত সত্ত্বেও পাম্পে হাহাকার

রুহেল হাশেমী

রুহেল হাশেমী

এপ্রিল ১, ২০২৬, ১২:০১ এএম

মজুত সত্ত্বেও পাম্পে হাহাকার

সারা দেশে জ্বালানি তেলের পাম্পগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে তেরপল টাঙানো দীর্ঘ লাইন আর সাধারণ মানুষের হাহাকার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জনমনে দানা বেঁধেছে তীব্র আতঙ্ক। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তাহলে প্রশ্ন জাগে- মজুত যদি থেকেই থাকে, তবে পাম্পে তেল নেই কেন? কেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ফিরতে হচ্ছে রিক্ত হস্তে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে প্যানিক বায়িং, অসাধু ডিলারদের কারসাজি এবং কৃত্রিম সংকটের এক নেপথ্য গল্প।

গুজব ও প্যানিক বায়িং- সংকটের মূল অনুঘটক : সামপ্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়া একটি গুজব পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে। গুজবটি হলো- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে তেল আমদানি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং দ্রুতই তেলের দাম দ্বিগুণ হবে।

এই ভুয়া তথ্যে আতঙ্কিত হয়ে সাধারণ মানুষ ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা শুরু করেছে। যার যার প্রয়োজন ৫ লিটার, সে কিনছে ২০ লিটার। যারা মাসে একবার ট্যাংক ফুল করতেন, তারা প্রতিদিন পাম্পে ভিড় করছেন। এই আকস্মিক ও অস্বাভাবিক চাহিদার চাপে পাম্পগুলোর স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সরকার বলছে, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত তেল কেনার এই প্রবণতাই কৃত্রিম সংকটের প্রধান কারণ।

ডিলার ও পাম্প মালিকদের কারসাজি : অভিযোগ উঠেছে, অনেক পাম্প কর্তৃপক্ষ তাদের ভূগর্ভস্থ ট্যাংকে পর্যাপ্ত তেল থাকা সত্ত্বেও ‘তেল নেই’ বলে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিচ্ছে। এর পেছনে কাজ করছে অধিক মুনাফার লোভ। মজুতদারি: যদি ভবিষ্যতে দাম বাড়ে, তবে বর্তমান মজুত চড়া দামে বিক্রি করা যাবে- এমন আশায় অনেক অসাধু ব্যবসায়ী তেল আটকে রাখছেন। কৃত্রিম সংকট: সরবরাহ চেইনে সাময়িক ধীরগতির সুযোগ নিয়ে অনেক ডিলার খুচরা পাম্পগুলোতে তেল পাঠাতে গড়িমসি করছেন, যা সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সরকারের অবস্থান, মজুত কি আসলেই পর্যাপ্ত : জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বারবার তথ্যদিয়ে জানাচ্ছেন যে, গত বছরের তুলনায় এবারে বেশি পরিমাণ তেল আমদানি করা হয়েছে। ‘আমাদের মজুত স্বাভাবিক আছে এবং আগামী এপ্রিল মাসেও বড় আকারের তেলের চালান দেশে পৌঁছাবে। তাই সংকটের কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।’ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য।

সরকারি তথ্যমতে, দেশের প্রধান ডিপোগুলোতে যে পরিমাণ ডিজেল ও অকটেন মজুত আছে, তা দিয়ে আগামী কয়েক মাস অনায়াসেই পার করা সম্ভব। এমনকি আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির কারণে বাংলাদেশের সরবরাহ চেইন এখনো নিরাপদ।

সরবরাহ চেইনের সাময়িক জটিলতা : পাম্পগুলোতে তেল না পাওয়ার পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো লজিস্টিক বা পরিবহন সমস্যা। মহাসড়কে যানজট এবং কিছু অঞ্চলে ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্ট থেকে পাম্পে তেল পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় সাময়িক শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। এই ধীরগতির কারণে অনেক পাম্প কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকছে, যা মানুষের মধ্যে আরও বেশি আতঙ্কের জন্ম দিচ্ছে।

সংকট নিরসনে প্রশাসনের পদক্ষেপ : পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মোবাইল কোর্ট: প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। যেসব পাম্প মজুত রেখেও তেল বিক্রি করছে না, তাদের বড় অঙ্কের জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। তদারকি বৃদ্ধি: হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন পাম্পগুলোর নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে। গুজব প্রতিরোধ: তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে এবং জনগণকে কেবল প্রয়োজনের ভিত্তিতে তেল কেনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পরিস্থিতির অবসান কখন : বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের সমাধান সরকারের হাতে যতটা না আছে, তার চেয়ে বেশি আছে সাধারণ মানুষের সচেতনতার ওপর। যদি মানুষ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনা বন্ধ করে, তবে আগামী ২-৩ দিনের মধ্যেই পাম্পগুলোর লাইন স্বাভাবিক হয়ে আসবে। ডিলারদের কারসাজি বন্ধে প্রশাসনের কঠোর তদারকি অব্যাহত থাকলে বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হবে। এপ্রিলের নতুন চালান পৌঁছালে সরবরাহের যেটুকু ঘাটতি আছে, তাও মিটে যাবে।

আমাদের করণীয় : একটি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমাদের উচিত গুজবে কান না দেয়া। পাম্পে অযথা ভিড় না করে স্বাভাবিক চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করা জরুরি। অসাধু ব্যবসায়ীদের রুখতে এবং দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে ধৈর্য ও সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি আর জনসচেতনতাই পারে এই কৃত্রিম সংকটের অবসান ঘটাতে।

Link copied!