ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২৬

নতুন আঙ্গীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই ৪, ২০২৬, ০১:০০ এএম

নতুন আঙ্গীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

আগামী অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে দেশের তৃণমূল পর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করার একটি খসড়া কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সময়সীমার মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরে সিটি করপোরেশনগুলোর ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।

নির্বাচন কমিশন এবার অঞ্চলভেদে এবং ভৌগোলিক ও আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনা করে ধাপভিত্তিক নির্বাচনের পরিকল্পনা করেছে। নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন শাখার উপসচিব মো. মনির হোসেনের তৈরি করা প্রতিবেদনে এই রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল : সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে পানি থাকায় নৌকাই যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম, যা মাথায় রেখে সময় নির্ধারণ করা হবে। পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চল : রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারসহ উপকূলীয় দ্বীপগুলোতে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির সময়টি ভোটের জন্য সবচেয়ে অনুকূল।

নদীপ্রধান ও চরাঞ্চল: কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন নদীতীরবর্তী অঞ্চলে সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। সমতল ও শহরাঞ্চল : বর্ষাকাল বাদে বছরের যেকোনো সময় এখানে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব। অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিভিন্ন ধাপের মধ্যে সময়ের ব্যবধান খুব কম থাকত। এতে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, আপিল নিষ্পত্তি, প্রশিক্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনসহ আনুষঙ্গিক কাজে জটিলতা ও সংঘাত তৈরি হতো। এবার সেই সমস্যা সমাধানে প্রতিটি ধাপের মধ্যে সময়ের ব্যবধান বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এতে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হবে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার ও মাধ্যমিক পরীক্ষার সূচির সাথে ভোটের তারিখ যেন সাংঘর্ষিক না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজর রাখা হচ্ছে। সাধারণত নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত স্কুল-কলেজের বার্ষিক পরীক্ষা এবং জানুয়ারিতে মাধ্যমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তাই এই সময়গুলোতে বিরতি রেখে নির্বাচনের সূচি সাজানো হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানই নির্বাচন উপযোগী। মোট ইউনিয়ন পরিষদ ৪,৫৮০টির মধ্যে ৩,৯৮১টি বর্তমানে নির্বাচনের উপযোগী। মোট পৌরসভা ৩৩০টির মধ্যে ৩২০টি নির্বাচন উপযোগী (১০টি আইনি জটিলতায় বাদ)। নবগঠিতসহ মোট ৫০০টি উপজেলা এখন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।

সিটি কর্পোরেশন : নতুন বগুড়াসহ মোট ১৩টি সিটি কর্পোরেশনই বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী। জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘অক্টোবরে নির্বাচন শুরুর বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ দিয়েই এই প্রক্রিয়ার সূচনা হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কমিশনের সব প্রস্তুতি রয়েছে। সরকার আমাদের নির্দেশনা দেয়ার ৪৫ দিনের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করতে আমরা সক্ষম।’

বর্তমানে বেশিরভাগ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। তাই নির্বাচন কমিশন সরকার থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজও সমান্তরালভাবে চলছে। ৩১ জুলাই পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।

সর্বোপরি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ভৌগোলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ধাপভিত্তিক নির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূলের ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রক্রিয়াটি সহজীকরণ এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এখন সরকারের সাথে চূড়ান্ত সমন্বয় এবং তফসিল ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন দেশের ভোটাররা। সঠিক সময়ে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া স্থানীয় সরকারের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই আশা করা যাচ্ছে।

Link copied!