জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
ডিসেম্বর ১০, ২০২৩, ০১:১৯ পিএম
কাঁচা-পাকা ফলে ভরে গেছে মাল্টা গাছ গুলো। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় নতুন জাতের মাল্টার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বাজারে। মাল্টা চাষ লাভজনক ও খরচ কম। ছয় বছর আগে গড়ে উঠে এ জাতের মাল্টা বাগান। প্রতিদিন মাল্টা বাগান দেখতে ভিড় করছেন দেশের বিভিন্ন জেলার ভ্রমণ প্রিয়সী মানুষ।
জীবননগর উপজেলার মানিকপুর গ্রামের সফল কৃষি উদ্যোক্তা সজল আহমেদ বাণিজ্যিকভাবে ইউয়লো জাতের মাল্টা বাগান করেন ২০১৮ সালে। ভারতের বিপুল মজুমদার নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে এ জাতের মাল্টার ৫৭টি ডাল সংগ্রহ করেন তিনি। ডালগুলো অন্য গাছের সঙ্গে কলম পদ্ধতির মাধ্যমে ২৫০টি চারা তৈরি করেন। চারাগুলো বাগানে লাগানোর পর ৬৯টি চারা মারা যায়। এক বছর পর বাকি গাছে অল্প পরিমাণে ফুল আসে। প্রত্যেকটি গাছে কিছু ফল ধরে। গাছগুলো পরিণত হতে থাকলে ফুল ও ফল বেশি ধরতে থাকে।
তরুণ উদ্যোক্তা সজল আহম্মেদ বলেন, মার্চ মাসে গাছে ফুল আসলেও ফল বাজারে বিক্রির উপযুক্ত হয় নভেম্বর মাস থেকে। মাল্টার গায়ের রঙ কাঁচায় গাঢ়সবুজ ও পাকলে বাইরের ও ভিতরের রঙ গাঢ় হলুদ। মাল্টা মিষ্টি, সুস্বাদু ও রসালো। এ জাতের মাল্টা চাষে খরচ তুলনামূলক কম। নিয়মিত পরিচর্যা, সার, কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় অল্প পরিমাণে।
প্রতিটি বড় গাছ থেকে প্রায় ২০০ কেজি ও ছোট গাছ থেকে ১০ কেজি করে মাল্টা পাওয়া যাবে। প্রতি কেজি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা দরে। ঢাকা, সাভার গাজিপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এ ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। থোকায় থোকায় গাছে ঝুলছে মাল্টা ফল।
বাগান পরিদর্শন শেষে খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন) মো. হাসানুজ্জামান বলেন, আমাদের দেশের মাটিতে মাল্টা চাষ হবে এটা আমরা কখনও ভাবতে পারিনি সজল আহম্মেদের মাল্টা বাগানের গাছে মাল্টা ফলে ভরে গেছে আর এ ধরনের বাগান আমি কোথাও দেখিনি। সজল আহম্মেদের মত দেশে যে সমস্থ তরুণরা আছে তারা যদি একটু উদ্যোগে নিয়ে এ ধরনের ফলের বাগান তৈরি করে তা হলে আমাদের দেশ আরও উন্নত হবে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে মাল্টা চাষ করে সফলতা পাওয়া সম্ভব সেটা প্রমাণ করে দিয়েছেন জীবননগর উপজেলার তরুণ কৃষক সজল আহম্মেদ। এ অঞ্চলের উৎপাদিত মাল্টার বাজারে চাহিদা রয়েছে। আমরা চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের সার্বিকভাবে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি এবং তাদের সহযোগিতা করা হচ্ছে।
এ মৌসুমে প্রায় ২১০০ গাছ থেকে প্রায় ৫৫ হাজার কেজি মাল্টা উৎপাদন হবে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
এআরএস