ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

অঢেল সম্পদের পাহাড় বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রার অসীমের

বরিশাল ব্যুরো

বরিশাল ব্যুরো

জুন ৩০, ২০২৪, ০৫:০৭ পিএম

অঢেল সম্পদের পাহাড় বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রার অসীমের

নবম গ্রেডের একজন নন ক্যাডার প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা বরিশাল সদরের সাব-রেজিস্ট্রার অসীম কল্লোল। সরকারি বেতন গ্রেড অনুযায়ী ২২ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫৩ হাজার ৬০ টাকা বেতনের এই কর্মকর্তা বরিশাল ও ঢাকায় সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন।

নামে বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি। আর এই সম্পদ অর্জনে বরিশাল সদর ভূমি অফিসকে ব্যবহার করে তৈরি করেছেন দুর্নীতিবাজদের একশ্রেণির সিন্ডিকেট। যে সিন্ডিকেটের কাছে দীর্ঘদিন অসহায় অবস্থায় রয়েছে ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা অসংখ্য সাধারণ মানুষ।

শুধু তাই নয় সাব-রেজিস্ট্রার অসীম কল্লোল নানা উপায়ে কিনেছেন বিলাসবহুল দামি গাড়ি ও ৪-৫ টি বহুতল ভবন। ঢাকায় এবং বরিশালে ৩টি ফ্লাটসহ সরকারি জমিতে করেছেন পাঁচ তলা ভবন।

নামে বেনামে কিনেছেন একরের পর একর জমি। স্ত্রীর নামেও কিনেছেন একাধিক জমি, করেছেন মাছের ঘেরসহ অ্যাগ্রো ফার্ম।

বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে তার জমি ও সম্পদের খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র পোর্ট রোড এলাকায় সরকারি খাস জমিতে করেছেন ৫ তলা ভবন। ঢাকায় কিনেছেন ২টি ফ্ল্যাট, বরিশাল নগরীর হাসপাতাল রোড এলাকার অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ড্রিম প্যালেসে কিনেছেন কোটি টাকার ফ্ল্যাট। (ফ্ল্যাট নং- ৩-অ)। এছাড়া সদর উপজেলার সায়েস্তাবাদে ১ একর ২৫ শতাংশ জমিতে স্ত্রীর নামে করেছেন সোনার বাংলা মৎস্য খামার ও অ্যাগ্রো ফার্ম।

শহরতলীর কাগাসুরা মুকুন্দপট্টি রাস্তার দুই পাসে ৮০ শতাংশ জমি কিনে করেছেন সুগন্ধা অ্যাগ্রো এন্ড ফিশারিজ। একই এলাকায় কাগাসুরা বাজারের পাশে একশো শতাংশ জমি কিনে তার উপর করেছেন মালটা বাগান। নগরীর ৪নং ওয়ার্ডে কিনেছেন ১২ শতাংশ প্লট ও লাকুটিয়া বাজার এলাকায় ২০ শতাংশ জমির ওপর করেছেন সুগন্ধা পোল্ট্রি খামার।

এছাড়াও তালতলী বাজারে স্ত্রীর নামে রয়েছে ইট বালু ও রড সিমেন্টের দোকান। এছাড়াও নিজের, স্ত্রীর ও ছেলের নামে রয়েছে প্রচুর সম্পদ। চাকরির সুবাদে যখন যেখানে বদলি হয়েছেন সেখানেই কিনেছেন জমি ও ফ্ল্যাট। তার সব সম্পত্তির পরিমাণ কয়েকশো কোটির বেশি বলে জানান স্থানীয়রা।

একজন সাব-রেজিস্ট্রারের এত সম্পত্তির উৎস্য খতিয়ে দেখার দাবিও জানান স্থানীয়রা।

সায়েস্তাবাদ এলাকার বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন জানান, একজন সাব-রেজিস্ট্রার হয়ে এতো বিশালাকার জমি কীভাবে কিনেছেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশে এখন সবকিছুই সম্ভব, আর যা কিছু অবৈধ উপায়ে হচ্ছে তা সব সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরাই করছেন।

কাগাশুরা বাজার এলাকার শহিদুল ইসলাম বলেন, শুনেছি সদর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার এই জমি কিনে মাল্টা বাগান করেছেন। এই বাগান দেখাশোনার জন্য একজন লোক নিয়োগ দেওয়া রয়েছে এখানে। মাঝে মাঝে সাব-রেজিস্ট্রার এখানে এসে ঘুরে যান। এছাড়াও এই এলাকায় তার আরও কয়েকটি বিশালাকার প্লট রয়েছে।

সদর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার অসীম কল্লোলের বিভিন্ন এলাকার সম্পদ ও জমির খোঁজ নিতে গেলে তার ছেলে ফোন দিয়ে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা করে চা খেয়ে কথা বলে সংবাদ প্রকাশ না করার কথা বলেন। এ ব্যাপারে বরিশাল সদর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার অসীম কল্লোলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এত সম্পত্তি আমার নেই, তবে বরিশালে ১টি, ঢাকায় ২টি ফ্লাটসহ ৫ তলা ভবন আছে। এছাড়া কিছু জায়গা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এসব সম্পত্তি ইনকাম ট্যাক্সের ফাইলে আছে। ফাইলের বাইরে এক শতাংশ জমিও নেই। সরকারকে প্রতি বছর এসব সম্পত্তির ট্যাক্স দিই। তাছাড়া এসব নিয়ে দুই-তিনবার দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে ডাকা হয়েছিল। তারা সম্পদের বিবরণী খতিয়ে দেখেছে।

বরিশালের জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার হয়ে যদি অবৈধভাবে কোনো কিছু করে থাকেন তাহলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশন বরিশাল অফিসের সহকারী পরিচালক শাজাহান মিরাজের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে না চাইলেও রিপোর্ট করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা, চাঁদপুর, গাজীপুরেও সাব রেজিস্ট্রার ছিলেন অসীম কল্লোল। ৪০ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে বর্তমানে তার বেতন ৭০ হাজার টাকায় দাড়িয়েছে। এর পাশাপাশি রড সিমেন্টের দোকান আর মাছের ঘেরের আয় থেকে দৈনন্দিন খরচ বাদ দিয়ে এত সম্পদের মালিক হওয়া কি আদৌ সম্ভব কিনা তা খতিয়ে দেখার দাবি সচেতন মহলের।

ইএইচ

Link copied!