ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
জুলাই ২, ২০২৪, ০১:০৬ পিএম
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের গজারিয়া খালের উপর পাকা সেতু না থাকায় কাঠের সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে ৮ গ্রামের মানুষ। নড়বড়ে এ সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও কয়েক শতাধিক যানবাহন যাতায়াত করে থাকে।
চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় পথচারীদের। অথচ এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ হলে বদলে যাবে এ অঞ্চলের অর্ধ লক্ষ মানুষের জীবনমান।
গজারিয়া খালের উপর নির্মিত অস্থায়ী কাঠের সেতুটি দিয়ে কাঞ্চনা,বড় বেতুয়া, ছোট বেতুয়া,সন্দীপ পাড়া,উত্তর বান্দর মারা, দক্ষিণ বান্দরমারা,মুজাহিদপুর, চুড়ামনিসহ আট গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ও যানবাহন যাতায়াত করে থাকে।
এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবী জানিয়ে সরকারের বিভিন্ন মহলে চেষ্টা তদবির চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে আশা ছেড়ে দিয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি গাছের খুঁটির উপর বিপজ্জনকভাবে দাঁড়িয়ে আছে কাঠের সেতুটি। সেতুটি তুলনামূলক সরু হওয়ায় যানবাহন চলাচল করতে হয় এক লাইনে। যার কারণে উভয় পাশে হরহামেশা যানজটের সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি সেতুর উভয় পাশে রেলিং না থাকায় দুর্ঘটনা যেন নিত্যসঙ্গী। এমতাবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপারে বাধ্য হচ্ছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ ছাড়াও খালের দুই পাড়ে গড়ে উঠা স্কুলকলেজ, মাদ্রাসাসহ চার পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত-শত শিক্ষার্থী।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয়রা দাবী জানিয়ে আসলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর আর্থিক সহায়তায় অস্থায়ী এ কাঠের সেতু তৈরী করে যাতায়াত করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
দাঁতমারা ইউপি চেয়ারম্যান মো. জানে আলম বলেন, আট গ্রামের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা কাঠের তৈরী সেতুটি। মুজাহিদপুর রাস্তার মাথায় একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কারণ এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ হলে কৃষি নির্ভর এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান পরিবর্তন হতে সময় লাগবে না।
ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) তন্ময় নাথ বলেন, গজারিয়া খালের মুজাহিদপুর নামক স্থানে সেতু নির্মাণ সময়ের দাবি। ইতিমধ্যে সেতুটির গুরুত্ব বিবেচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
বিআরইউ