ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

সুন্দরবন ঘেঁষা কয়রায় ৩০ প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ

তারিক লিটু, কয়রা (খুলনা)

তারিক লিটু, কয়রা (খুলনা)

সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫, ০৫:০১ পিএম

সুন্দরবন ঘেঁষা কয়রায় ৩০ প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ

খুলনার সুন্দরবনঘেষা উপজেলার কয়রার শত শত শিশু প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন। অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের দেয়াল ফাটল ধরে গেছে এবং ছাদ খসে পড়ার উপক্রম। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখানে মোট ১৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

এর মধ্যে ৩০টির ভবন এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবু বিকল্প না থাকায় প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থীকে এসব ভবনেই পাঠ নিতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক বিদ্যালয়ের ছাদের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে গেছে। কোথাও বড় ফাটল, কোথাও ভাঙা দরজা–জানালা। বর্ষাকালে ছাদ চুইয়ে পানি মেঝে ভিজে থাকে, ফলে ক্লাস নিতে হয় ভেজা পরিবেশে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়েই ক্লাস চালাচ্ছেন।

স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, সামান্য ভূমিকম্প বা প্রবল বর্ষণে যেকোনো সময় ভবনগুলো ধসে পড়তে পারে।

অবকাঠামোর সংকটের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন বাদ দিয়ে পাঠদানের সুযোগ নেই। কোথাও অস্থায়ী টিনশেড ঘর ব্যবহার করা হলেও তা অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও অনিরাপদ। বিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশে নেই সীমানাপ্রাচীর, উপযুক্ত খেলার মাঠ, পর্যাপ্ত বেঞ্চ বা শিক্ষাসামগ্রী।

ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে পূর্ব চৌকুণি, বাঁশখালী, কয়রা মদিনাবাদ মডেল, নাকশা, ইসলামপুর, জোড়শিং, মদিনাবাদ মধ্যপাড়া, মহেশ্বরীপুর শেখপাড়া, মালিখালী এবং শহিদ এম. গফুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ৩০টি। এসব বিদ্যালয়ে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পড়াশোনা করছেন। 

এছাড়া আটরা সপ্রাবি, উত্তর কালিকাপুর সপ্রাবি, কয়রা উত্তর চক এবং সুন্দরবন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন না থাকায় বর্ষার সময় শিক্ষার্থীদের সমস্যা হয়।

কয়রা মদিনাবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদ সরোয়ার বলেন, “ভালো ভবন না থাকায় অভিভাবকেরা সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে অনীহা দেখাচ্ছেন। অনুপস্থিতি বাড়ছে। জরুরি সংস্কার ছাড়া ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে।”

দক্ষিণ বেদকাশীর সুন্দরবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের কোনো পাকা ভবন নেই। বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে ভাঙা টিনসেড ঘরে ক্লাস নিতে হচ্ছে। সুন্দরবন থেকে গরান কাঠ সংগ্রহ করে বেড়া দিয়ে তার ওপর টিনের ছাউনি তৈরি করা হয়েছে। ফলে গরমে বাচ্চারা খুব কষ্ট পাচ্ছে।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার কর্মকার বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত বিদ্যালয় ভবনের তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ এখন সবচেয়ে জরুরি। এর মধ্যে কিছু বিদ্যালয়ে অস্থায়ী শেড দিয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা মনে করেন, কয়রার শিক্ষার মান ধরে রাখতে হলে অবিলম্বে এসব ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরি। অন্যথায় বিদ্যালয় বিমুখ হবে শিশুরা এবং ঝরে পড়ার সংখ্যা বাড়বে।

ইএইচ

Link copied!