ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া

নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫, ০১:২০ পিএম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্বে সাধারণ সেবা গ্রহীতারা নাভিশ্বাস উঠেছেন। সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরটি বর্তমানে যেন দালাল ও দুর্নীতিবাজদের আবাসস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাব-রেজিস্ট্রার বোরহান উদ্দিন দলিল লেখকদের সহযোগিতায় সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে লক্ষ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত আদায় করছেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী হেবা দলিলে ৭৮০ টাকা এবং কবলা দলিলে ৩৮০ টাকা ফি নির্ধারিত থাকলেও, দৌলতপুর অফিসে হেবা দলিলের জন্য ৩,২২০ টাকা এবং কবলা দলিলের জন্য ৩,১২০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। 

এছাড়া মৌজা মূল্যের বেশি মূল্যে ২%, জমির শ্রেণী না থাকলে ২%, বন্টন নামা দলিলে ১%, শ্রেণী বাড়ী হলে ১০,০০০ টাকা, এক দলিলে দুটি মৌজা হলে ২০,০০০ টাকা, ওয়ারিশ সূত্রে ২০,০০০ টাকা এবং জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের সমস্যা থাকলে ৭,০০০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে।

এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হাই সিদ্দিকী ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন কাজ হয়নি বরং আরো বেপরোয়া ভাবে নির্দ্বিধায় চাঁদাবাজি চলছে এমন অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া সাব-রেজিস্ট্রারের ব্যক্তিগত কক্ষে (খাস কামরা) দলিল করলে প্রতিটি দলিলের জন্য অতিরিক্ত ৫,০০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ থাকে। ফলে মোট দলিলের ৮০ শতাংশ খাস কামরায় রেজিস্ট্রি করা হয়। পে-অর্ডারের নামে চলছে আরেকটি অনিয়ম। এতে সাধারণ জনগণ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এক ভুক্তভোগী জানান, হোগলবাড়ীয়া মৌজায় তার ৫ কোটি টাকার দলিলে সাব-রেজিস্ট্রার ১৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত নিয়েছেন। 

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, তার ৩৮ হাজার টাকার দলিল রেজিস্ট্রি করতে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

সাবেক এমপি ও দৌলতপুর থানা বিএনপির সভাপতি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মন্টি সরকার, সাবেক সদস্য সচিব শহিদ সরকার মঙ্গল, সাবেক ছাত্রদল নেতা মুকুল শাহসহ একাধিক ব্যক্তি এ দুর্নীতির কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।

নিয়ম অনুযায়ী সকাল ১০টায় রেজিস্ট্রি কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সাব-রেজিস্ট্রার প্রায় নিয়মিত দুপুর ১টার পর অফিসে উপস্থিত হন এবং ২টার পর কাজ শুরু হয়। অনেক সময় বিকেল ৪টা বেজে যাওয়ার পরও কার্যক্রম শুরু হয় না, এবং ৫টার পর লেট ফি বাবদ সেবা গ্রহীতাদের আরও ২,০০০ টাকা দিতে হয়।

এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার বোরহান উদ্দিন সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। যারা অভিযোগ করেছে, তারাই প্রকৃতপক্ষে এসব দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। দলিল লেখক ও কিছু দালালের যোগসাজশে অনিয়ম হয়, আমি কোনো দুর্নীতি করি নাই।”

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, “সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতির অভিযোগ এত বেশি শুনতে হচ্ছে যে, আমি সত্যিই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। আগামী দিনে নিজে সরাসরি উপস্থিত থেকে সব ধরনের দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেব।”

স্থানীয় সচেতন মহল দৌলতপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতির বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইএইচ

Link copied!