ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

রাজশাহীতে ঐতিহাসিক দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি ভাঙার কাজ বন্ধ

রাকিবুল হাসান, রাজশাহী

রাকিবুল হাসান, রাজশাহী

ডিসেম্বর ৩, ২০২৫, ১০:২১ পিএম

রাজশাহীতে ঐতিহাসিক দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি ভাঙার কাজ বন্ধ

রাজশাহী মহানগরীর সিপাইপাড়া এলাকায় দিঘাপতিয়ার রাজবংশের উত্তরাধিকারভোগী সন্দীপ কুমার রায়ের বাড়ি ভাঙার কাজ শেষ পর্যন্ত থামিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ঐতিহ্যবাহী এ স্থাপনাটি আর না ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে।

বুধবার দুপুরে বোয়ালিয়া থানা ভূমি কার্যালয়ের কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাঙার কাজ বন্ধ করে দেন। এর আগে পাশাপাশি থাকা দোতলা দুটি ভবনের বেশির ভাগ অংশই গুঁড়িয়ে ফেলা হয়। এখন শুধু মেঝের নিচে থাকা সুড়ঙ্গের ইট তোলার কাজ বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রাজবাড়ির এই জায়গাটি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের ঠিক বিপরীত পাশে, প্রধান সড়কসংলগ্ন। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, পুঠিয়ার মহারানি হেমন্ত কুমারী রাজশাহী এলে এই দোতলা ভবনেই অবস্থান করতেন। রাজপরিবার স্থানত্যাগের পর দীর্ঘদিন বাড়িটি ছিল পরিত্যক্ত।

স্বাধীনতার পর বাড়িটি ভাষাসৈনিক ও নারী উদ্যোক্তা মনোয়ারা রহমানের নামে ইজারা দেয় সরকার। তিনি এখানে ‘মহিলা কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠান’ পরিচালনা করতেন। হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১০ হাজার নারীর কর্মসংস্থান হয়েছিল বলে পুরোনো সূত্রে জানা যায়।

২০০৯ সালে মনোয়ারা রহমানের মৃত্যু হলে আবারও পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে বাড়িটি। সম্প্রতি সেই ইজারা বাতিল করে বোয়ালিয়া থানা ভূমি কার্যালয়। এরপর সরকারি নিলামের মাধ্যমে ১ লাখ ৫২ হাজার টাকায় জায়গাটি বিক্রি করা হয়। নিলামে ক্রেতা ব্যক্তি শ্রমিক নিয়োগ করে টানা দুই সপ্তাহ ধরে ভবন ভাঙার কাজ চালান।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও সচেতন নাগরিকদের প্রতিবাদের মুখে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

বোয়ালিয়া থানা ভূমি কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাড়িটি এখন যে অবস্থায় আছে, আপাতত সেভাবেই রাখা হবে। দুপুরে আমাদের লোকজন গিয়ে লালসালু টাঙিয়ে দিয়েছে, শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জায়গাটি নিয়ে পূর্বে একটি সিদ্ধান্ত ছিল। আপাতত সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে যে অংশের ইট ভেঙে রাখা হয়েছে, নিলামক্রেতা শুধু সেগুলো সরিয়ে নিতে পারবেন। এর বাইরে আর একটি ইটও তোলা যাবে না। এখন কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করবে। পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ভেঙে ফেলার ঘটনাকে দুঃখজনক বলে মনে করছেন স্থানীয় ইতিহাসবিদ ও সংস্কৃতিকর্মীরা। তাঁদের দাবি, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার আগেই এমন স্থাপনা ভাঙা উচিত হয়নি।

জেএইচআর

Link copied!