ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

শরীয়তপুরে তীব্র এলপিজি সংকট, চরম ভোগান্তিতে ভোক্তারা

নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুর

নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুর

জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

শরীয়তপুরে তীব্র এলপিজি সংকট, চরম ভোগান্তিতে ভোক্তারা
ছবি: প্রতিনিধি

শরীয়তপুরের ৬টি উপজেলার সর্বত্রই এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জেলায় প্রায় ২০ জন ডিলার রয়েছে। তাদের কারো কাছেই বর্তমানে পর্যাপ্ত গ্যাস সিলিন্ডার নেই। ফলে বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ অনেকাংশেই বন্ধের উপক্রম হয়ে পড়েছে।

ডিলারদের কারো কারো কাছে কিছু টোটাল কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও সেগুলোর দাম অত্যন্ত চড়া। ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডার ১৫০০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে না। বিপাকে পড়ে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বেশি দাম দিয়েই এসব গ্যাস সিলিন্ডার কিনছে। তবে সেক্ষেত্রে সঙ্গে একটি রেগুলেটরও নিতে হচ্ছে।

বর্তমানে টোটাল গ্যাসের রেগুলেটরের সাইজ ২০। অথচ অধিকাংশ বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত রেগুলেটরের সাইজ ২২। এ কারণে অনেক ভোক্তাকে নতুন রেগুলেটর কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে।

বিশেষ করে শরীয়তপুর শহর অঞ্চলে যারা দোতলা থেকে বহুতল ভবনে বসবাস করেন, তাদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। এসব পরিবার ইচ্ছে করলেই চুলায় লাকড়ি দিয়ে রান্না করতে পারছেন না। তাছাড়া এসব ভবনে মাটির চুলাও নেই। ফলে গ্যাস সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওইসব বাসাবাড়ির মানুষ। এমন সংকট চলতে থাকলে আগামী ৩/৪ দিনের মধ্যে বাসাবাড়িতে রান্না করা আরও কষ্টকর হয়ে উঠবে। এক কথায়, অনেকেই বাধ্য হয়ে মাটির চুলায় রান্নার কথা ভাবছেন।

ডিলারদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, শরীয়তপুরের ডিলাররা মূলত মংলা বন্দর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করে থাকেন। কিন্তু ১ জানুয়ারি থেকে গ্যাস কোম্পানিগুলো কোনো গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ দিচ্ছে না। ডিসেম্বরের ১৫ তারিখের পর থেকে চাহিদার তুলনায় অর্ধেক গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে।

ডিলারদের গাড়ি নিয়ে গ্যাস প্লান্টে গিয়ে সিরিয়াল দিয়ে ৬/৭ দিন অপেক্ষা করে গ্যাস সিলিন্ডার আনতে হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ একেবারেই অপ্রতুল। ১ হাজার বোতলের চাহিদা দিলে মাত্র ৪০০ বোতল সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে করে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে গ্যাসের দাম বেশি পড়ছে এবং ভোক্তারা বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে গ্যাস কিনছেন।

ডিলাররা অভিযোগ করে বলেন, তারা এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করলেও কোনো কার্যকর ফল পাচ্ছেন না। নামমাত্র মাঝে মধ্যে ২/১টি অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হলেও এতে কোনো সুফল পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ।

ভুক্তভোগী শেখ কামাল ও দোলওয়ার বেপারী বলেন, শরীয়তপুরে যে গ্যাস সংকট চলছে, তাতে ২/১ দিনের মধ্যেই আমাদের বাসাবাড়িতে কোনো গ্যাস থাকবে না। গ্যাস না থাকলে আমরা রান্না করবো কীভাবে? কিভাবে খাব? বাধ্য হয়ে হোটেল-রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনে খেতে হবে।

আরেক ভোক্তা সেলিনা আক্তার বলেন, হঠাৎ করে গ্যাস সংকট হওয়ায় আমাদের খুব সমস্যা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আমরা চরম দুর্ভোগে পড়বো।

ডিলার সেলিম খান ও বেলায়েত হোসেন বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে গ্যাস কোম্পানিগুলো কোনো সিলিন্ডার সরবরাহ দিচ্ছে না। ডিসেম্বরের ১৫ তারিখের পর থেকে চাহিদার তুলনায় অর্ধেক গ্যাস দেওয়া হয়েছে। তাও গাড়ি নিয়ে প্লান্টে গিয়ে ৬/৭ দিন অপেক্ষা করে সিরিয়াল পেয়ে গ্যাস আনতে হয়েছে। ১ হাজার বোতলের চাহিদা দিলে ৪০০ বোতল সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। এতে করে আমাদের খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

শরীয়তপুর জেলা গ্যাস বিক্রেতা সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম পাইলট বলেন, ডিসেম্বরের ১৫ তারিখের পর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ করা হয়েছে। তাও ৬/৭ দিন অপেক্ষা করে আনতে হয়েছে। ১ হাজার বোতলের চাহিদা দিলে মাত্র ৪ শত বোতল সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে একেবারেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ। এসব কারণেই জেলায় ভয়াবহ গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এএন

Link copied!