মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে জবাই করা ১৩টি ঘোড়া জব্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
বুধবার সকালে উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের আনারপুরা গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এ সময় জবাইয়ের উদ্দেশ্যে আনা একটি জীবন্ত ঘোড়াও উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অল্প মূল্যে অসুস্থ ঘোড়া কিনে সেগুলোর মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন হোটেলে বিক্রি করে আসছিল। বুধবার সকালে বিষয়টি টের পেয়ে গ্রামবাসী ওই বাড়িতে গেলে অস্ত্রধারী কয়েকজন সন্ত্রাসী পালিয়ে যায়। পরে পরিত্যক্ত ঘরের ভেতরে ১৩টি ঘোড়ার মরদেহ পাওয়া যায়।
হাসান মিয়া নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এখানে অসুস্থ ঘোড়া জবাই করা হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছিল। আজ হাতেনাতে ধরার জন্য তারা সেখানে গেলে চক্রটি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পালিয়ে যায়। অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী নাজমুল হোসেন জানান, প্রতি রবি ও বুধবার গভীর রাতে এখানে গাড়ি আসত এবং সকালে রক্ত ও হাড় পড়ে থাকতে দেখা যেত। চক্রটি প্রমাণ নষ্ট করতে চামড়া ও হাড় গর্ত করে পুঁতে ফেলত।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ঘোড়া জবাই করার কোনো সুযোগ নেই। অভিযুক্তদের ঘটনাস্থলে পাওয়া না যাওয়ায় পুলিশকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। জবাই করা ঘোড়াগুলো প্রাণিসম্পদ অফিসের সহায়তায় মাটিতে পুঁতে ফেলা হবে।
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে দোষীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে মাংস কেনা নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জেএইচআর