সাইফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম
এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
ঘর আলো করে এসেছিল ছোট্ট শিশু ফাহিম। তার আগমনে পুরো বাড়িটাই যেন আনন্দে ভরে উঠেছিল। কিন্তু সেই হাসি-আনন্দ খুব বেশি দিন স্থায়ী হলো না। হঠাৎ করেই সব রোশনাই বিষাদে পরিণত হয়। মরণব্যাধী ব্লাড ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে ফাহিমের রক্তে। চিকিৎসকরা জানান, তাকে সুস্থ করতে প্রায় ৩০/৩৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। মোবাইল মেকানিকস বাবা আর দিনমজুর দাদার পক্ষে এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব নয়। ফলে পরিবারটি এখন চরম সংকটে পড়েছে।
সরজমিনে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের তালুক আষারু গ্রামের মোবাইল মেকানিক মিজানুর রহমান ও গৃহবধূ ফেন্সি আক্তারের ৫ বছরের শিশু সন্তান ফাহিম আহমেদ। প্রায় এক বছর আগে পিজি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। সন্তানের চিকিৎসার জন্য মিজানুর রহমান রাজারহাট বাজারে থাকা মোবাইল দোকানসহ সব মালপত্র বিক্রি করে দেন। এরপর এনজিও থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়। পরে বসতবাড়ি ব্যাংকে মর্টগেজ রেখে আরও ৬ লাখ টাকা সংগ্রহ করে চিকিৎসায় ব্যয় করা হয়। এসময় সরকারি-বেসরকারি সহায়তাও পেয়েছিল পরিবারটি।
কিন্তু বর্তমানে আবারও চরম সংকটে পড়েছে পরিবারটি। জমানো সব অর্থ শেষ হয়ে গেছে। কেমোথেরাপি ও ইনজেকশনের খরচ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশুটির চিকিৎসা চালিয়ে যেতে এখনো প্রায় ৫/৬ লাখ টাকার প্রয়োজন।
ফাহিমের দাদা আব্বাস আলী জানান, নাতির চিকিৎসার জন্য বাড়িঘর ও দোকান সবই শেষ হয়ে গেছে। প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন আর কোনো উপায় নেই।
ফাহিমের দাদি মমতা বেগম বলেন, “কলিজার টুকরার জন্য বুকটা ফেটে যাচ্ছে। সবকিছু শেষ করে ফেলেছি। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা আটকে আছে।”
ফাহিমের বাবা মিজানুর রহমান জানান, চিকিৎসকরা বলেছেন আরও দেড় বছর নিয়মিত কেমোথেরাপি চললে সে সুস্থ হতে পারে। কিন্তু সেই খরচ জোগাড় করা এখন তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
ফাহিমের মা ফেন্সি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, অন্য বাচ্চারা খেলাধুলা করে, স্কুলে যায়। আমার ছেলে আমাকে প্রশ্ন করে মা আমি কখন খেলতে যাবো, কখন স্কুলে যাবো? সন্তানের কথা শুনে বুকটা ভেঙে যায়।
পরিবারটি এখন সমাজের বিত্তবান, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সহায়তার আকুতি জানিয়েছে।
এএন