শিমুল হাছান, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর)
জুন ৩০, ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ বাজারের ‘ভাই ভাই শিল্পালয় অ্যান্ড জুয়েলার্স’ থেকে চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে ফরিদগঞ্জ ও রামগঞ্জ থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে এক চোরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে রামগঞ্জ উপজেলার উত্তর চন্দিপুর গ্রামের এক বাড়িতে চুরির ঘটনায় ওই এলাকার মহসিনের ছেলে শান্তকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন দিনদুপুরে উত্তর চন্দিপুর গ্রামের মিলন রানী মালাকারের বাড়ি থেকে স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার রামগঞ্জ থানায় মামলা করলে পুলিশ তদন্তে নেমে চোর শান্তকে গ্রেপ্তার করে। শান্তর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রামগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রান্ত, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মহিউদ্দিন এবং ফরিদগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক পিয়াস বড়ুয়ার নেতৃত্বে ফরিদগঞ্জ বাজারের উত্তর প্রান্তে স্বর্ণব্যবসায়ী শ্যামল দাসের মালিকানাধীন 'ভাই ভাই শিল্পালয় অ্যান্ড জুয়েলার্স'-এ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত শান্ত ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার কাছিয়াড়া কলেজগেট এলাকার শিপন মোল্লার মেয়েকে বিয়ে করে প্রায় পাঁচ বছর আগে। চুরির পর সে তার শাশুড়ি কুলছুমা বেগমকে দিয়ে এই চোরাই স্বর্ণালংকার বিক্রি করায়।
চোরের শাশুড়ি কুলছুমা বেগম জানান, তাঁর জামাতা দাবি করেছিল স্বর্ণটি সে কুড়িয়ে পেয়েছে। 'ভাই ভাই শিল্পালয় অ্যান্ড জুয়েলার্স' তাঁর পরিচিত দোকান হওয়ায় তিনি সেখানে গিয়ে একটি স্বর্ণের চেইন ১ লাখ ২২ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
এদিকে স্বর্ণ ক্রয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে ওই জুয়েলার্সের কর্মচারীরা জানান, তাঁরা টাকা দিয়ে স্বর্ণটি কিনেছেন। তবে অভিযানের সময় দোকানের মালিক শ্যামল দাসকে না পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় স্বর্ণব্যবসায়ী শঙ্কর দাস বলেন, কুলছুমা বেগম যখন স্বর্ণ বিক্রি করেন তখন তাঁরা উপস্থিত ছিলেন। এগুলো চোরাই মাল হওয়ায় বিক্রেতা কুলছুমা বেগমকে উপস্থিত রেখে স্বর্ণ উদ্ধার অভিযানে প্রশাসনকে সহযোগিতা করা হয়েছে।
জেএইচআর