মিজানুর রহমান, মনিরামপুর (যশোর)
জুলাই ৫, ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া ও হরিদাসকাটি ইউনিয়নের সংযোগস্থলে ‘বড় খাল’ এর ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ দুই বছরেও শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে এক বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও নির্মাণকাজ অর্ধেকেই আটকে থাকায় অন্তত ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্প (সিএএফডিআরআইআরপি) এর আওতায় নেহালপুর ইউপি-হাজিরহাট বাজার হয়ে কুলটিয়া ইউপি সড়কের ‘বড় খাল’ এর ওপর ২০ মিটার দীর্ঘ একটি আরসিসি গার্ডার সেতু পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
২ কোটি ৭২ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯২ টাকা ৮১ পয়সা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ পান সাতক্ষীরার পলাশপোল এলাকার ঠিকাদার মো. ইকবাল জমাদার। ২০২৪ সালের ১ মে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হরিদাসকাটি ইউনিয়নের হাজিরহাট থেকে দক্ষিণমুখী সড়কটি বড় খালের কাছে এসে থেমে গেছে। পুরোনো জরাজীর্ণ সেতুর অধিকাংশ অংশ ভেঙে ফেলা হলেও নতুন সেতুর কেবল দুটি কংক্রিটের পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। চলাচলের জন্য নির্মাণাধীন সেতুর পাশে কাঠের গুঁড়ি ও তক্তা দিয়ে একটি অস্থায়ী সেতু তৈরি করা হয়েছে, যা বর্তমানে নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে।
পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে ওই সেতু পার হচ্ছেন। ভ্যান, মোটরসাইকেল ও সাইকেল চালকদের অনেক ক্ষেত্রে যানবাহন ঠেলে বা টেনে পার হতে হচ্ছে। কেউ কেউ ঝুঁকি এড়িয়ে সেতুর আগেই যানবাহন রেখে ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ২০টি গ্রামের চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতার কারণে বর্ষাকালে অস্থায়ী কাঠের সেতুটি পানির নিচে তলিয়ে গেলে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
পদ্মনাথপুর গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুল আজিজ মোড়ল বলেন, দুই বছর ধরে একটু একটু করে কাজ হচ্ছে। কিন্তু শেষ হচ্ছে না। কাঠের সেতু দিয়ে ভ্যান পার করা খুবই কষ্টকর। এতে যাত্রীও কমে গেছে।
ডাঙ্গা মহিষদিয়া গ্রামের ঘাটশ্রমিক রোস্তম সরদার বলেন, শুকনো মৌসুমে কষ্ট করে চলাচল করা গেলেও বর্ষায় প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।
পাঁচবাড়িয়া গ্রামের ভ্যানচালক ভুপতি রায় বলেন, যাত্রী নামিয়ে ভ্যান টেনে কাঠের সেতু পার করতে হয়। সেতুর কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই দুর্ভোগ চলতেই থাকবে।
হরিদাসকাটি গ্রামের কৃষক দেবদাস রায় বলেন, এই সড়ক দিয়ে গেলে সময় ও দূরত্ব দুটোই কম লাগে। কিন্তু দুই বছর ধরে সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় সবাই কষ্টে আছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. ইকবাল জমাদার প্রথমে পরে কথা বলবেন বলে জানালেও পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তবে পরে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে পানি সেচে কাজ করতে হওয়ায় নির্মাণকাজে বিলম্ব হয়েছে। পুরোনো সেতু অপসারণের কাজ দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে শেষ হবে। এরপর স্লাব ঢালাই শুরু করা হবে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে পুরো সেতুর কাজ শেষ করার আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি চলাচলের জন্য ব্যবহৃত নড়বড়ে কাঠের সেতুটিও দুই দিনের মধ্যে মেরামত করা হবে বলে জানান।
মনিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে বছরের প্রায় ছয় মাস কাজ করা সম্ভব হয় না। বর্তমানে শাটারিং বসানোর কাজ চলছে এবং পুরোনো সেতুর অবশিষ্ট অংশ অপসারণ করা হচ্ছে। স্লাব ঢালাই শেষ হলে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হবে। চলতি বছরের মধ্যেই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, অস্থায়ী কাঠের সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ঠিকাদারকে দ্রুত এটি মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এম জি