ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬

কাবা শরিফ নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট করায় যুবক গ্রেপ্তার

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

জুলাই ৬, ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

কাবা শরিফ নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট করায় যুবক গ্রেপ্তার

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ, মশাল মিছিল ও ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটামের পর ১৬ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত শিমুল হালদারকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে নাটোর বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার পোস্ট অফিস-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা শিমুল হালদারের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে মুসলিমদের পবিত্র স্থান কাবা শরিফকে নিয়ে অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ ছবি পোস্ট করা হয়েছে- এমন অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার (৫ জুলাই) দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত গুরুদাসপুর থানা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করেন যে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হবে।

পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অভিযুক্তের বাড়িতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একই দিন রাত ১০টার দিকে গুরুদাসপুর গোবিন্দ মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সকালে নাটোর বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে শিমুল হালদারকে গ্রেপ্তার করে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিমুল হালদারের বাবা প্রয়াত নবীন হালদার পেশায় দর্জি ছিলেন। কয়েক বছর ধরে তাদের গ্রামের বাড়িটি তালাবদ্ধ। পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় বসবাস করেন এবং শিমুল মাঝেমধ্যে গ্রামের বাড়িতে আসতেন।

অভিযুক্তের বড় ভাই পলাশ হালদার মোবাইল ফোনে বলেন, “গুরুদাসপুরে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। এমন ঘটনায় আমরা দুঃখিত। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন করে ন্যায়বিচার হোক- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।” তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখার অনুরোধ জানান।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, “স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের সহযোগিতা এবং পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলমান। কেউ ব্যক্তিস্বার্থে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, “উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণেই দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার দায় কোনো সম্প্রদায়ের ওপর চাপানো উচিত নয়। সবাইকে শান্ত থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে এবং হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে।”

এএন

Link copied!