জসীম উদ্দিন জয়নাল, পার্বত্যাঞ্চল
জুলাই ৭, ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
খাগড়াছড়িতে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) রাত থেকে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। টানা বর্ষণে চেঙ্গী ও মাইনী নদীসহ বিভিন্ন খাল-ছড়ার পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুর থেকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর, মহালছড়ি, মাটিরাঙ্গা, গুইমারা, মানিকছড়ি, পানছড়ি ও দীঘিনালা উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে দেখা গেছে। পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যেই নিম্নাঞ্চলের বহু ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও কোনো পাহাড়ধস বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূতি চাকমা জানান, আজ বেলা ১টা পর্যন্ত আগের ১৮ ঘণ্টায় দীঘিনালায় ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ভারী বর্ষণের কারণে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের কলাবাগান, নেন্সিবাজার, মোল্লাপাড়া, কৈবল্যপীঠ আঠার পরিবার, শালবন ও মোহাম্মদপুর এলাকা এবং দীঘিনালার কবাখালী ও মেরুং এলাকার নিচু অংশ প্লাবিত হয়েছে। একই সাথে মাইসছড়ি, মহালছড়ি, মাটিরাঙ্গা, গুইমারা ও মানিকছড়িসহ জেলার বিভিন্ন দুর্গম ও পাহাড়ের ঢালে চরম ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে শত শত পরিবার। যেকোনো সময় পাহাড়ধসের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত এক জরুরি বার্তায় বলেন, টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের জানমালের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, জেলা সদরসহ প্রতিটি উপজেলায় পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সেখানে শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবক দলও প্রস্তুত রয়েছে।
জেএইচআর