বান্দরবান প্রতিনিধি
জুলাই ৮, ২০২৬, ০২:১০ পিএম
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির ঢলে বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বহু বসতঘর, গ্রামীণ সড়ক ও কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চরম জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার আর্মি পাড়া, মেম্বার পাড়া, ইসলামপুর শেরেবাংলা, ব্রিগেড এলাকা, বালাঘাটার আমবাগান, ক্যাচিংঘাটা ও হাফেজঘোনাসহ নদী তীরবর্তী বেশ কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
এদিকে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জেলাজুড়ে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় ১ শত ৪০টিরও বেশি পরিবার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। সময়ের সাথে সাথে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা আরও বাড়ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যার মধ্যে বান্দরবান সদরেই রয়েছে ৪৫টি। সম্ভাব্য বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বান্দরবান সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিল্টন দস্তিদার বলেন, উপজেলার ৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে আজ বুধবার বেলা ১১টা পর্যন্ত ১৯০টি পরিবারের প্রায় ৭০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের সার্বিক সহযোগিতা ও ত্রাণ প্রদান করা হচ্ছে।
বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ সকাল ৯টায় নদীটির পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে ১৫.৭৫ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত এভাবে চলতে থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
বান্দরবান আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মন্ডল জানান, গতকাল সকাল ৯টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলায় ৩০৯ মিলিমিটার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী কয়েক দিন এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলার সাতটি উপজেলায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জেএইচআর