আমার সংবাদ ডেস্ক
জুলাই ৮, ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে প্রায় পাঁচ শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। তবে এমন দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে আটকে পড়া পর্যটকদের পাশে দাঁড়িয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় কটেজ ও রিসোর্ট মালিকরা। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে পর্যটকদের কাছ থেকে কোনো ধরনের রুম ভাড়া না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি হওয়ায় গত মঙ্গলবার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। তবে এই সরকারি নির্দেশনা আসার আগেই শত শত পর্যটক সাজেকে অবস্থান করায় তাঁরা আপাতত সেখান থেকে নিজেদের গন্তব্যে ফিরতে পারছেন না।
স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির মাইনী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা ও লংগদু-দীঘিনালা সড়কের বেশ কিছু নিচু অংশ সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একই কারণে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলার সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি অঞ্চলের কয়েকটি স্থানে ছোটখাটো ধস এবং কোথাও কোথাও সড়কের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সড়ক ডুবে যাওয়ায় লংগদু-দীঘিনালা সড়কের মেরুং এলাকায় বর্তমানে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একই সময়ে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের নানিয়ারচরের কেঙ্গেলছড়ি এলাকায় সড়কের ওপর পানি ওঠায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বেশ কিছু এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের দপ্তর সম্পাদক এস এম জিয়াউল হক (যুবরাজ) জানান, বাঘাইহাট ও মাচালং এলাকার নিচু সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাজেক ভ্যালিতে বর্তমানে প্রায় ৫ শতাধিক পর্যটক আটকে আছেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে সমিতির পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে আটকে পড়া পর্যটকদের কাছ থেকে কোনো কটেজ বা রিসোর্টের রুম ভাড়া নেওয়া হবে না। তাঁরা শুধুমাত্র ব্যবহৃত পানি এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করবেন। এছাড়া স্থানীয় খাবারের হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোও যাতে পর্যটকদের জন্য সীমিত ও সাশ্রয়ী মূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করে, সেই অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টিপাত এভাবে অব্যাহত থাকলে পাহাড়ধস ও নিচু এলাকার জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এ কারণে খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া এই মুহূর্তে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণ না করার জন্য পর্যটক ও সাধারণ মানুষকে বিশেষভাবে পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
জেএইচআর