ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬

শ্রীপুরে একই কারখানায় টানা দুই দিন শ্রমিক অসুস্থ, কারণ নিয়ে রহস্য

এস এম জহিরুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর)

এস এম জহিরুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর)

জুলাই ৮, ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম

শ্রীপুরে একই কারখানায় টানা দুই দিন শ্রমিক অসুস্থ, কারণ নিয়ে রহস্য

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকার কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মরত অবস্থায় শ্রমিকরা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মঙ্গলবার অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার পর বুধবার (৮ জুলাই) আরও ৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক মাথা ঘোরা, বুকে ব্যথা, পেটব্যথা ও বমি বমি ভাব নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

একই কারখানায় পরপর দুই দিনের এমন ঘটনায় শ্রমিকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, প্রশাসন ও চিকিৎসকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলেও এর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এদিকে সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

শ্রমিকরা জানান, বুধবার সকালে উৎপাদন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর কয়েকজন নারী শ্রমিক হঠাৎ মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। পরে একই ধরনের উপসর্গ একে একে আরও অনেকের মধ্যে দেখা দেয়। মুহূর্তেই উৎপাদন ফ্লোরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ অসুস্থ শ্রমিকদের মাওনা চৌরাস্তার আল-হেরা হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়।

অসুস্থ শ্রমিকদের দাবি, গত মাসে সহকর্মী লিজা আক্তারের মৃত্যুর পর থেকেই তারা মানসিকভাবে অস্বস্তিতে রয়েছেন। তবে তাদের মতে, শুধু আতঙ্ক দিয়ে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া ঠিক হবে না। একই ফ্লোরে বারবার এমন ঘটনা কেন ঘটছে, তা বৈজ্ঞানিক ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

মাওনা চৌরাস্তার আল-হেরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আবুল হোসেন বলেন, হাসপাতালে ভর্তি শ্রমিকদের অধিকাংশই নারী। তাদের মধ্যে বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা, পেটব্যথা ও বমি বমি ভাবের উপসর্গ দেখা গেছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি ‘ম্যাস সাইকোজেনিক ইলনেস’ (Mass Psychogenic Illness) বা গণ-মানসিক প্রতিক্রিয়াজনিত অসুস্থতা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি এখনো নিশ্চিত নয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ ও তদন্তের পরই প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তিনি জানান, সিভিল সার্জনের নির্দেশনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দে বলেন, কাজে যোগ দেওয়ার কিছুক্ষণ পর কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অন্যদের মধ্যেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। শ্রমিকদের একটি অংশের অনুরোধে কয়েকজন ইমামকে এনে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগ। স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, টানা দুই দিনই কারখানার প্রধান ফটকে ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের বক্তব্য নিতে গেলেও কারখানার লোকজন আপত্তি জানান।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, আগের দিন এক সংবাদকর্মীর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। পরদিনও একই ধরনের আচরণের অভিযোগে সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন, যদি ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো সংশয় না থাকে, তাহলে সংবাদ সংগ্রহে বাধা কেন? আহত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে আপত্তি কেন? তথ্য প্রকাশে অনীহা কেন? এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর না মেলায় শ্রমিকদের মধ্যেও নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন দিবাগত রাতে একই কারখানার সুইং অপারেটর লিজা আক্তার (৩৬) কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মারা যান। সহকর্মীদের অভিযোগ, অসুস্থ হওয়ার পরও তাকে সময়মতো ছুটি দেওয়া হয়নি। ওই ঘটনার পর শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। এরপর টানা দুই দিন শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় কারখানার কর্মপরিবেশ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।

এম জি

Link copied!