রুশমী আক্তার, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)
জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সুখছড়ি খালের পাড় ভাঙনে একটি গ্রামীণ সড়ক বিলীন হয়ে গেছে। সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় চলাচলে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এলাকার মানুষ। সাধারণ মানুষ, পথচারী এবং স্কুল-মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ রয়েছে যানবাহন চলাচলও।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডলুকুল হয়ে সড়কটি অতিবাহিত হয়েছে। ডলুকুল এলাকার পরের অংশটি সুখছড়িকুল সড়ক নামে পরিচিত। সুখছড়িকুল সড়কের কামাল কোম্পানির বাড়ি সংলগ্ন অংশের পুরো সড়কটি সুখছড়ি খালের ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে শত শত মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকার পাশাপাশি স্কুল ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরাও এ সড়ক ব্যবহার করতে পারছেন না। বিকল্প হিসেবে এলাকার কিছু মানুষ অন্যের বাড়ির ওপর দিয়ে চলাচল করছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দফা ভারী বর্ষণের কারণে খালের ভাঙনে সড়কটির ওই অংশ বিভিন্ন সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে সড়কটি পুরোপুরি বিলীন হলেও এখনো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সড়কের পূর্ব পাশে আলকুনি পাড়া সড়ক রয়েছে, সেটিও ভারী বর্ষণে ডুবে যায়। এতে সাধারণ জনগণ, পথচারী ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুযোগ থাকে না। গত বছর ভারী বর্ষণে সড়কের যে অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেটিও পরবর্তীতে পুরোপুরি ভেঙে গেছে।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খালের ভাঙনে সড়কটি বিলীন হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। তারা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
লোহাগাড়া সুখছড়ি সমাজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ইউনুচ জানান, বিগত সময়ে এলাকার মানুষের কাছ থেকে কিছু টাকা সংগ্রহ করে ফান্ড তৈরি করে নিজেদের উদ্যোগে সড়কটি মেরামত করা হয়েছিল। তিনি বলেন, এই সড়ক দিয়ে আমাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকে মানুষ চলাচল করে আসছে। আমরাও ব্যবহার করছি। কিন্তু কামাল কোম্পানির বাড়ির সংলগ্ন খালের গর্তে ভারী বর্ষণে সড়কটি বিলীন হওয়ায় বর্তমানে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য এনামুল হক বাবুল বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ থেকে ভাঙন এলাকায় ইট দিয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ভারী বর্ষণে সড়কের পুরো অংশই বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে এলাকার মানুষ চলাচল করতে পারছেন না।
লোহাগাড়া সদরের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল মন্নান বলেন, সুখছড়ি খালের ভাঙনে সুখছড়ি সড়কের অংশ বিলীন হয়ে গেছে। এতে মানুষ আতঙ্ক ও দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম বলেন, ভাঙনের বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে তালিকাভুক্ত করা হবে এবং সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার বলেন, বিষয়টি জানতে পেরেছি। ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এএন