ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬
পর্দার পেছনের আসল জওয়ান

সহকর্মীদের নিরাপত্তায় শাহরুখ খানের অনন্য নজির

বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫, ১২:০৫ পিএম

সহকর্মীদের নিরাপত্তায় শাহরুখ খানের অনন্য নজির

বলিউডে শাহরুখ খান কেবল একজন অভিনেতার নাম নয়, তিনি একটি আবেগের নাম। পর্দার রোমান্টিক হিরো হিসেবে বিশ্বজুড়ে তাঁর খ্যাতি থাকলেও, বাস্তব জীবনে তিনি যে কতটা বিনয়ী এবং দায়িত্বশীল, তার আরও একটি প্রমাণ মিলল অভিনেত্রী গিরিজা ওকের বক্তব্যে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে গিরিজা বর্ণনা করেছেন, কীভাবে চেন্নাইতে শুটিং চলাকালীন শাহরুখ খান নিজের নারী সহকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগী হয়েছিলেন।

গিরিজা ওক তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে শুরুতেই বলেন, শাহরুখ খান সেটে কার সঙ্গে কাজ করছেন, সে বিষয়ে সব সময় সচেতন থাকেন। তিনি বলেন, তিনি সেটের প্রত্যেকের সঙ্গে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে আচরণ করেন। তিনি শুধু একজন সুপারস্টার নন, বরং একজন সচেতন সহকর্মী।

গিরিজার মতে, শাহরুখ খান সেটে এমন এক পরিবেশ তৈরি করেন যেখানে সবাই নিজেকে নিরাপদ এবং সম্মানিত বোধ করেন। বিশেষ করে নারী সহকর্মীদের প্রতি তাঁর আচরণ সবসময়ই উদাহরণযোগ্য।

গিরিজা একটি নির্দিষ্ট ঘটনার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ঘটনাটি ঘটেছিল চেন্নাইতে ‘জওয়ান’ সিনেমার শুটিং চলাকালীন। পরিচালক অ্যাটলির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা। সেই সময় শাহরুখ খান নিজে এগিয়ে এসে তাঁদের খোঁজ নেন।

গিরিজা জানান, আমরা যখন অ্যাটলি স্যারের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য রওনা হচ্ছিলাম, শাহরুখ স্যার আমাদের জিজ্ঞেস করলেন আমরা কীভাবে সেখানে যাচ্ছি। আমরা যখন তাঁকে জানালাম যে আমরা প্রোডাকশনের গাড়িতে করে যাচ্ছি, তিনি তা শুনেই থেমে থাকেননি।
অভিনেত্রীর ভাষ্যমতে, শাহরুখ খান তৎক্ষণাৎ তাঁর নিজস্ব নিরাপত্তা কনভয় থেকে একটি গাড়ি আলাদা করে দেন গিরিজা ও অন্য নারী সহকর্মীদের অনুসরণ করার জন্য। শুধু অনুষ্ঠানে যাওয়া নয়, অনুষ্ঠান শেষে তাঁরা যাতে নিরাপদে হোটেলে ফিরতে পারেন, সে ব্যাপারেও ছিল কড়া নির্দেশনা।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে গিরিজা আরও বলেন, শাহরুখ খানের ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরা তাঁদের হোটেল পর্যন্ত অনুসরণ করেন। গিরিজা বলেন, শাহরুখ স্যারের গার্ডরা ততক্ষণ আমাদের সঙ্গে ছিলেন, যতক্ষণ না আমরা হোটেলের লিফটের ভেতরে প্রবেশ করেছি। তাঁরা আমাদের ‘গুড নাইট’ জানালেন এবং আমরা সম্পূর্ণ নিরাপদ-এটি নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল তাঁরা সেখান থেকে বিদায় নেন।

ক্যামেরার পেছনে একজন মানুষের এমন চিন্তাশীলতা এবং যত্ন দেখে অভিভূত গিরিজা ওক। তিনি মনে করেন, বড় মাপের তারকা হওয়া সহজ, কিন্তু এমন মানবিক গুণসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব হওয়া সত্যিই বিরল।

শাহরুখ খানের এই আচরণের পেছনে লুকিয়ে আছে তাঁর পারিবারিক শিক্ষা এবং নারীদের প্রতি তাঁর আজীবনের দৃষ্টিভঙ্গি। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি বারবার বলেছেন, নারীদের ছাড়া কোনো সমাজ বা সিনেমা স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তাঁর এই দর্শনের প্রতিফলন দেখা যায় তাঁর প্রতিটি কাজে।

শাহরুখ খানই বলিউডের সেই প্রথম সুপারস্টার যিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, তাঁর সিনেমার ক্রেডিট লাইনে বা নামলিপিতে নায়কের নামের আগে নায়িকার নাম থাকবে। ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ থেকে শুরু হওয়া এই প্রথা আজও তিনি বজায় রেখেছেন। এটি কেবল লোকদেখানো কোনো কাজ নয়, বরং লিঙ্গ সমতার প্রতি তাঁর শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।

শাহরুখের সেটে কাজ করা মানেই হলো এক ধরণের রাজকীয় আতিথেয়তা পাওয়া। জুনিয়র আর্টিস্ট থেকে শুরু করে টেকনিশিয়ান-সবার খাবারের মান এবং কাজের পরিবেশ যাতে সেরা হয়, সেদিকে শাহরুখের তীক্ষ্ণ নজর থাকে। গিরিজা ওকের এই নতুন গল্পটি কেবল সেই পরিচিত সত্যেরই পুনরুক্তি করল।

শাহরুখ খান মনে করেন, একজন শিল্পীর জন্য তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে আউটডোর শুটিংয়ে যেখানে হাজার হাজার মানুষের ভিড় থাকে, সেখানে নারী সহকর্মীরা যাতে কোনোভাবেই অস্বস্তিতে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে তিনি তাঁর নিজের ব্যক্তিগত সিকিউরিটি টিমকেও কাজে লাগাতে দ্বিধা করেন না।

গিরিজা ওকের এই ইন্টারভিউ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই শাহরুখ ভক্তরা তাঁদের প্রিয় তারকার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, এজন্যই তিনি কিং খান। তিনি জানেন কীভাবে একজন নারীকে সম্মান করতে হয়। অন্য একজন লিখেছেন, পর্দার রোমান্স নয়, শাহরুখের আসল জাদুটো তাঁর ব্যক্তিত্বে।

বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে ক্ষমতার দাপট দেখানো অনেক তারকার ভিড়ে শাহরুখ খান নিজেকে আলাদা করেছেন তাঁর অমায়িক ব্যবহার দিয়ে। গিরিজা ওকের দেওয়া এই তথ্য আবারও মনে করিয়ে দেয় যে, কেন ৩৩ বছর ধরে তিনি বলিউডের সিংহাসন ধরে রেখেছেন।

সিনেমা আসে, সিনেমা যায়; বক্স অফিসের রেকর্ড ভাঙে আবার নতুন করে গড়ে। কিন্তু একজন মানুষের মানবিকতা এবং তাঁর সহকর্মীদের প্রতি যত্নবোধই তাঁকে ইতিহাসের পাতায় অমর করে রাখে। চেন্নাইয়ের সেই রাতে শাহরুখ খান যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন, তা কেবল একদল সহকর্মীর জন্য ছিল না, তা ছিল একজন ‘জেন্টলম্যান’-এর পক্ষ থেকে পেশাদারিত্ব ও সৌজন্যের এক অনন্য পাঠ।

শাহরুখ খান প্রমাণ করেছেন, আসল ‘বাদশাহ’ হতে গেলে কেবল রাজপ্রাসাদ থাকলেই চলে না, থাকতে হয় অন্যের নিরাপত্তা ও সম্মানের কথা ভাবার মতো একটি বিশাল হৃদয়।

জেএইচআর

Link copied!