বিনোদন ডেস্ক
মার্চ ১১, ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
বলিউডের অন্যতম পাওয়ার কাপল রণবীর সিং এবং দীপিকা পাড়ুকোন। পর্দায় তাঁদের রসায়ন যেমন আগুন ঝরায়, বাস্তব জীবনে তাঁদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ভক্তদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।
আগামী ৫ এপ্রিল মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চেতক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর প্রাক্কালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে ২০১৮ সালের একটি ভিডিও, যা আবারও প্রমাণ করল কেন রণবীর-দীপিকাকে ‘কাপল গোলস’ বলা হয়।
২০১৮ সালের সেই রাতে সঞ্জয় লীলা বনশালির মহাকাব্যিক সিনেমা 'পদ্মাবত'-এ আলাউদ্দিন খিলজি চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য রণবীর সিং ‘সেরা অভিনেতা’র (পুরুষ) পুরস্কার জিতেছিলেন। পুরস্কার নিতে মঞ্চে উঠে রণবীর তাঁর স্বভাবজাত শক্তির বাইরে গিয়ে এক অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ভাষণ দেন।
সদ্য বিবাহিত রণবীর দর্শকসারিতে বসা দীপিকার দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘ফিল্ম মে শায়দ মুঝে মেরি রানি নহিন মিলি, পার রিয়েল লাইফে মুঝে মেরি রানি মিল গয়ি (সিনেমাটিতে হয়তো আমি আমার রানিকে পাইনি, কিন্তু বাস্তব জীবনে আমি আমার রানিকে পেয়ে গেছি)।
তিনি আরও যোগ করেন, গত ছয় বছরে আমি যা কিছু অর্জন করেছি, তা সম্ভব হয়েছে কারণ তুমি আমাকে সব সময় মাটির সাথে যুক্ত রেখেছ এবং সঠিক পথে পরিচালিত করেছ। সব কিছুর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। আমি তোমাকে ভালোবাসি।
রণবীরের এই স্বীকারোক্তি শুনে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি দীপিকা। ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল তাঁর চোখের জল মোছার সেই হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য।
পুরস্কারটি হাতে নিয়ে রণবীর তাঁর সাফল্যের কারিগর সঞ্জয় লীলা বনশালিকেও শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ‘স্যার, আপনার কারণেই আমি আজ এই মাপের অভিনেতা হতে পেরেছি। আপনি আমাকে গড়ে তুলেছেন। আপনাকে অনেক ভালোবাসি।‘এছাড়া তিনি তাঁর মা, বাবা এবং বোনকেও তাঁর এই সাফল্যের কৃতিত্ব দেন।
ভাষণের শেষ পর্যায়ে রণবীর অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তাঁর পরলোকগত নানির কথা স্মরণ করে। তিনি জানান, পুরস্কারটি তিনি তাঁর নানিকে উৎসর্গ করছেন। রণবীর স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘নানির জীবনের শেষ দিনে আমার বোন তাঁর পাশে ছিল। আমি ফোন করে জানতে চেয়েছিলাম নানি কী করছেন। বোন বলেছিল, নানি ছাদে বসে নাস্তার সময় প্রতিদিনের মতো ‘খালি বালি’ গানটি দেখছেন। এর পরের ফোন কলেই জানতে পারলাম নানি আর নেই। নানি, আমি জানি আজ তুমি ওপর থেকে আমাকে দেখছ। আমি তোমাকে অনেক মিস করি।’
২০১৮ সালের সেই আসরে রণবীর সিংয়ের সাথে যৌথভাবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছিলেন রাজকুমার রাও (স্ত্রী সিনেমার জন্য)। সেই রাতে মনোনয়নের তালিকায় ছিলেন রণবীর কাপুর (সাঞ্জু), আয়ুষ্মান খুরানা (আন্ধাধুন/বাধাই হো) এবং ভিকি কৌশল (মনমরজিয়াঁ)-এর মতো শক্তিশালী অভিনেতারা।
রাজকুমার রাও তাঁর ভাষণে রণবীরের মতো একই সুরে বলেন, ‘বলা হয় প্রতিটি সফল পুরুষের পেছনে একজন নারী থাকেন। আমার পেছনে একজন ‘স্ত্রী’ (নারী) আছেন যিনি আমাকে সমালোচকদের প্রিয় অভিনেতা থেকে জনপ্রিয় অভিনেতায় রূপান্তর করেছেন। ‘তিনি তাঁর তৎকালীন প্রেমিকা (বর্তমানে স্ত্রী) পত্রলেখার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং পুরস্কারটি তাঁর মাকে উৎসর্গ করেন।
২০১৮ সালের সেই আবেগঘন রাতটি আজও বলিউডপ্রেমীদের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। যেখানে তারকাদের গ্ল্যামারের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছিল তাঁদের মানবিকতা এবং প্রিয়জনদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। আগামী ৫ এপ্রিলের আসরে আবারও এমন কোনো জাদুকরী মুহূর্তের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো বলিউড।
এএন