ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

কিশোরদের চোখের সমস্যা কমাতে প্রতিদিনের সহজ ঘরোয়া পরামর্শ 

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫, ০৩:৪৯ পিএম

কিশোরদের চোখের সমস্যা কমাতে প্রতিদিনের সহজ ঘরোয়া পরামর্শ 

বর্তমান ডিজিটাল যুগে কিশোরদের জীবনে মোবাইল ফোন, ট্যাব, কম্পিউটার ও অনলাইন পড়াশোনার ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর ফলে চোখে জ্বালা, চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা ও দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হওয়ার মতো নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। 

কিশোর বয়সে চোখের যত্ন না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দৃষ্টিজনিত জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে কিছু সহজ ঘরোয়া অভ্যাস ও সচেতনতা গড়ে তুললে কিশোরদের চোখের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

স্ক্রিন ব্যবহারে নিয়ম মানা: কিশোরদের চোখের সমস্যার অন্যতম কারণ হলো দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা। একটানা ২০ মিনিট স্ক্রিন ব্যবহারের পর অন্তত ২০ সেকেন্ড দূরের (২০ ফুট দূরে) কোনো বস্তু দেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এটি ‘২০-২০-২০ নিয়ম’ নামে পরিচিত। এতে চোখের পেশি আরাম পায় এবং চোখের ক্লান্তি কমে।

পর্যাপ্ত আলোতে পড়াশোনা: কম আলো বা অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলোতে পড়াশোনা করলে চোখে চাপ পড়ে। পড়ার সময় আলো যেন সামনে থেকে আসে এবং বই বা খাতায় ছায়া না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিছানায় শুয়ে বা চলমান অবস্থায় পড়াশোনা করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

চোখে নিয়মিত বিশ্রাম: চোখও শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো বিশ্রাম চায়। পড়াশোনা বা স্ক্রিন ব্যবহারের ফাঁকে চোখ বন্ধ করে ১-২ মিনিট বিশ্রাম নেওয়া উপকারী। এতে চোখের পেশি শিথিল হয় এবং চোখে জ্বালাপোড়া কমে।

পর্যাপ্ত পানি পান: শরীরে পানির ঘাটতি হলে চোখ শুষ্ক হয়ে যায়। কিশোরদের প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পানি চোখের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং চোখের অস্বস্তি কমায়।

পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ: চোখ ভালো রাখতে খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন-এ, সি ও ই সমৃদ্ধ খাবার চোখের জন্য উপকারী। গাজর, পেঁপে, কুমড়া, শাকসবজি, ডিমের কুসুম, দুধ, মাছ ও বাদাম নিয়মিত খেলে চোখের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। ফলমূল, বিশেষ করে কমলা, আমলকি ও পেয়ারা চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সহায়ক।

ঘুমের পর্যাপ্ততা: ঘুমের অভাব কিশোরদের চোখের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো কিশোরদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম চোখকে বিশ্রাম দেয় এবং চোখের ক্লান্তি দূর করে।

চোখ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস: চোখে ময়লা বা ধুলো ঢুকলে সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে নেওয়া উচিত। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ ঘষা থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে চোখে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ঘরোয়া চোখের ব্যায়াম: সহজ কিছু চোখের ব্যায়াম কিশোরদের জন্য উপকারী। যেমন, চোখ ঘোরানো, চোখ দ্রুত পিটপিট করা, কাছের ও দূরের বস্তু পর্যায়ক্রমে দেখা। দিনে ৫-১০ মিনিট এ ধরনের ব্যায়াম করলে চোখের শক্তি বাড়ে।

অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে সীমা নির্ধারণ: অপ্রয়োজনীয় গেম বা সামাজিক মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানো কিশোরদের চোখের জন্য ক্ষতিকর। অভিভাবকদের উচিত শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহারের সময় সীমিত করা এবং বাইরে খেলাধুলায় উৎসাহ দেওয়া।

নিয়মিত চোখ পরীক্ষা: চোখে সমস্যা অনুভব করলে অবহেলা না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করলে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা আগেভাগেই শনাক্ত করা যায়।

কিশোরদের চোখের সুস্থতা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 

দৈনন্দিন জীবনে সামান্য সচেতনতা, সঠিক অভ্যাস ও ঘরোয়া নিয়ম মেনে চললে চোখের বহু সমস্যা সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। অভিভাবক ও শিক্ষকদের সম্মিলিত উদ্যোগে কিশোরদের চোখের যত্নে সচেতন করে তুললেই একটি সুস্থ ও আলোকিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যাবে।

ইএইচ

Link copied!