ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

সারাদেশে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে হাম, জানুন লক্ষণ ও সুরক্ষার উপায়

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

মার্চ ৩০, ২০২৬, ১১:৪২ এএম

সারাদেশে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে হাম, জানুন লক্ষণ ও সুরক্ষার উপায়

রাজধানী ঢাকাসহ বেশ কিছু জেলায় হঠাৎ করেই শিশুদের মধ্যে হামে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। গত তিন মাসে রাজধানীর একটি হাসপাতালেই মারা গেছেন ২২ জন শিশু। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানের ঘাটতি এবং সচেতনতার অভাবে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা বিশেষ করে শিশুদের জন্য মারাত্মক হতে পারে।

হাম একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা মূলত শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে খুব সহজেই এটি অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে যায়। এমনকি ভাইরাসটি বাতাসে বা কোনো পৃষ্ঠে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমিত ব্যক্তি ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার ৪ দিন আগে থেকে ৪ দিন পর পর্যন্ত অন্যদের মধ্যে রোগটি ছড়াতে পারে।

হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেকটা সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো। শুরুতে জ্বর, শুষ্ক কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরবর্তীতে মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (কোপলিক স্পট) দেখা দিতে পারে। এর কয়েকদিন পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়, যা সাধারণত মুখ থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে জ্বর ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, হাম বিশ্বের অন্যতম সংক্রামক রোগ। টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে সংক্রমণ ঘটে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব শিশু টিকা পায়নি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব রয়েছে এমন মানুষ হামজনিত জটিলতার বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

এটিকে সাধারণ রোগ মনে করা হলেও এটি মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে নিউমোনিয়া, কানের সংক্রমণ, মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) এবং শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভপাত বা অকাল প্রসবের ঝুঁকিও বাড়ে।

হামের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। তবে জ্বর কমানোর ওষুধ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, তরল খাবার গ্রহণ এবং ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অতিরিক্ত চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, হামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ হলো এমএমআর টিকা। নির্ধারিত বয়সে শিশুদের এই টিকা দেওয়া হলে রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। সংক্রমণের সন্দেহ হলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টিকা গ্রহণ করলে রোগের তীব্রতা কমানো সম্ভব বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা জরুরি। পাশাপাশি, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাই পারে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে। 

এএন

Link copied!