ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

দিনে ৫ ঘণ্টা ডিভাইসে শিশুদের চোখ, ভয়াবহ তথ্য উঠে এলো গবেষণায়

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

মে ১৪, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম

দিনে ৫ ঘণ্টা ডিভাইসে শিশুদের চোখ, ভয়াবহ তথ্য উঠে এলো গবেষণায়

রাজধানী ঢাকার শিশুদের একটি বড় অংশ প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় ব্যয় করছে মোবাইল ফোন, টেলিভিশন, ট্যাব বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে। এর ফলে শিশুদের পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে না, ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তারা মাথাব্যথা ও চোখের নানাবিধ সমস্যায় ভুগছে। এমনকি তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। 

বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে। এর আগে গবেষণাপত্রটি ‘জার্নাল অব মেডিকেল ইন্টারনেট রিসার্চ (জেএমআইআর) হিউম্যান ফ্যাক্টরস’-এ প্রকাশিত হয়।

২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকার তিনটি বাংলা মাধ্যম ও তিনটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪২০ জন শিশুর ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। গবেষকরা শিশুদের শারীরিক পরীক্ষা, সরাসরি সাক্ষাৎকার এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে তাদের স্ক্রিন ব্যবহারের সময়, ঘুমের অভ্যাস, ওজন এবং মানসিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহ করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি পাঁচটি শিশুর মধ্যে চারটিই (প্রায় ৮৩ শতাংশ) প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি সময় ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে। অথচ আন্তর্জাতিক নিয়মে বিনোদনমূলক স্ক্রিন ব্যবহারের সীমা দিনে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা। গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুরা স্মার্টফোন, ট্যাব বা গেমিং ডিভাইসে গড়ে প্রতিদিন ৪ দশমিক ৬ ঘণ্টা বা প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় ব্যয় করছে।

গবেষণার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো হলো:

  • শারীরিক সমস্যা: প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু নিয়মিত মাথাব্যথায় এবং এক-তৃতীয়াংশ শিশু চোখের সমস্যায় ভুগছে।
  • ঘুমের অভাব: যারা দিনে ২ ঘণ্টার বেশি ডিভাইস ব্যবহার করে, তারা গড়ে মাত্র ৭ দশমিক ৩ ঘণ্টা ঘুমাচ্ছে। অথচ এই বয়সের শিশুদের জন্য ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম অপরিহার্য।
  • ওজন বৃদ্ধি: প্রায় ১৪ শতাংশ শিশু অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার শিকার এবং যারা বেশি স্ক্রিন দেখে তাদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি।
  • মানসিক স্বাস্থ্য: প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে ২ জনই দুশ্চিন্তা, অতি-চঞ্চলতা বা আচরণগত সমস্যায় ভুগছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শৈশবে ঘুমের অভাব স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, শারীরিক বৃদ্ধি এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। রাতে ডিভাইসের ব্যবহার মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে ঘুমের স্বাভাবিক চক্র নষ্ট করে। এছাড়া সরাসরি মেলামেশা কমে যাওয়ায় শিশুদের সামাজিক দক্ষতা ও মন-মেজাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

আইসিডিডিআর,বি-র সহকারী বিজ্ঞানী ও প্রধান গবেষক ডা. শাহরিয়া হাফিজ কাকন বলেন, শিশুদের দেরিতে ঘুমানো, বারবার মাথাব্যথা, খিটখিটে মেজাজ বা বাইরের খেলাধুলায় অনীহার মতো লক্ষণগুলো মা-বাবার উপেক্ষা করা উচিত নয়। এগুলো অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব হতে পারে।

গবেষকরা শিশুদের চোখের সুরক্ষায় ‘২০-২০-২০’ নিয়ম অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন ব্যবহারের পর ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকতে হবে।

আইসিডিডিআর,বি-র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, “ডিজিটাল ডিভাইস এখন জীবনের অংশ হলেও শিশুদের সুস্থতার জন্য এর ব্যবহারে সীমা টানা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, স্কুলগামী শিশুদের বিনোদনমূলক স্ক্রিন টাইম দিনে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টার মধ্যে রাখা উচিত।” তিনি সন্তানদের শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পারিবারিক সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।

জেএইচআর

Link copied!