ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নাকি নতুন বিপর্যয়: ইরাকের ছায়া কি এখন ইরানে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নাকি নতুন বিপর্যয়: ইরাকের ছায়া কি এখন ইরানে?

একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিয়েছিল একটি ভুল সিদ্ধান্ত। ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের সেই ক্ষত আজও বিশ্ব রাজনীতিতে টাটকা। ঠিক দুই দশক পর, ২০২৬ সালে এসে বিশ্ব আবার এক উৎকণ্ঠার মুখোমুখি। 

প্রশ্ন উঠেছে, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ইরাক নিয়ে যে ধরনের রণকৌশলগত ফাঁদে পা দিয়েছিলেন, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি ইরানের ক্ষেত্রে সেই একই পথে হাঁটছেন? সিএনএন এর প্রতিবেদক স্টিফেন কলিনসনের মতে, ট্রাম্পের বর্তমান গতিবিধি এবং বাগাড়ম্বর ২০০৩ সালের সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোরই প্রতিধ্বনি।

ইরাক যুদ্ধের ব্যর্থতা মার্কিন জনগণের মধ্যে যে গভীর ক্ষোভ আর অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছিল, সেই জনতুষ্টির ঢেউয়ে সওয়ার হয়েই ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেছিলেন। ট্রাম্পের আমেরিকাকে আবার মহান করে তুলুন দর্শনের মূলে ছিল বিদেশের মাটিতে অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে মার্কিন অর্থ ও রক্ত ব্যয় না করা। 

কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস হলো, সেই ট্রাম্পই এখন মধ্যপ্রাচ্যে ২০০৩ সালের পর বৃহত্তম সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছেন। বর্তমানে ভূমধ্যসাগর থেকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত মার্কিন রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এবং কয়েক ডজন এফ ২২ যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে যে, কূটনীতির আড়ালে বারুদের গন্ধ তীব্র হচ্ছে।

২০০২ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ দাবি করেছিলেন, সাদ্দাম হোসেনের ইরাক এমন সব গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করছে যা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম। পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে, সেই গোয়েন্দা তথ্য ছিল সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। ২০২৬ সালে এসে ট্রাম্প বলছেন একই কথা। তাঁর দাবি, ইরান এমন সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে যা ইউরোপ ছাড়িয়ে খুব শীঘ্রই মার্কিন মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে পারবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই সুর আরও চড়িয়েছেন। কিন্তু সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্প হয়তো বাড়িয়ে বলছেন। 

প্রশ্ন হলো, কেন? ইরাক যুদ্ধের সময়ও একই কৌশলে মার্কিন জনমতকে যুদ্ধের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। ট্রাম্পও কি তবে কোনো সামরিক অভিযানের নৈতিক বৈধতা খুঁজছেন?

ইরাক অভিযানের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ছিল পরিকল্পনাহীনতা। সাদ্দামকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ইরাকের শাসনভার কে নেবে, কীভাবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঠেকানো হবে, এ নিয়ে বুশ প্রশাসনের কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিল না। যার ফলাফল ছিল দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ এবং আইএসের মতো চরমপন্থী গোষ্ঠীর উত্থান। ইরানের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন উঠছে। 

যদি মার্কিন হামলায় তেহরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পতন ঘটে, তবে ক্ষমতার শূন্যতা কে পূরণ করবে? মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, এই শূন্যতা পূরণে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি), যারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চরম বিদ্বেষী। ভেনেজুয়েলায় নিকোলা মাদুরোকে সরিয়ে দেলসি রদ্রিগেজকে বসানোর মতো সহজ সমীকরণ ইরানে কাজ করবে না। ইরানি সমাজ অত্যন্ত জটিল এবং জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ। বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া কোনো শাসককে তারা মেনে নেবে না, এটা ধ্রুব সত্য।

বর্তমানে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এই আলোচনার নেতৃত্বে রয়েছেন। তবে ট্রাম্পের সামনে একটি বড় রাজনৈতিক দেওয়াল রয়েছে। তিনি বারাক ওবামার আমলের পরমাণু চুক্তি বাতিল করেছিলেন। এখন এমন কোনো চুক্তি তিনি করতে পারবেন না যা দেখতে ওবামার চুক্তির মতো। তাঁকে নতুন কিছু করে দেখাতে হবে। ইরানও খুব সহজে নতি স্বীকার করছে না।

তারা লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফির পরিণতি দেখেছে, যার কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র নেই, তার পতন ত্বরান্বিত হয়। তাই নিজের অস্তিত্ব টেকাতেই তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া।

২০০৩ সালে মার্কিন জেনারেলরা ভেবেছিলেন, ইরাকিরা তাদের মুক্তিদাতা হিসেবে ফুল দিয়ে বরণ করে নেবে। বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। ২০২৬ সালে এসে ট্রাম্পও হয়তো ভাবছেন, ইসরায়েলি হামলায় দুর্বল হয়ে পড়া ইরানের ওপর একটি সহজ জয় পাওয়া সম্ভব। কিন্তু ইতিহাস বলে, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো যুদ্ধই সহজ নয়। ট্রাম্পের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে। 

প্রথমটি হলো কূটনৈতিক সাফল্য, যদি ইরানকে বড় কোনো ছাড় দিতে বাধ্য করা যায়, তবে ট্রাম্প একে তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ ডিল হিসেবে প্রচার করতে পারবেন। দ্বিতীয়টি হলো সামরিক জুয়া, শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের নেশায় যদি তিনি হামলা চালান, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রকে এক নতুন দীর্ঘমেয়াদী সংকটে ফেলে দিতে পারে।

ইরাক যুদ্ধের বিশ বছর পর ট্রাম্প এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। তিনি কি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেবেন, নাকি ইতিহাসের সেই পুরনো ফাঁদেই পা দেবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে ২০২৬ সালের বিশ্বশান্তি। ইরাকের ছায়া যদি সত্যিই ইরানে পড়ে, তবে তার চড়া মূল্য দিতে হতে পারে পুরো বিশ্বকে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

জেএইচআর

Link copied!