আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুন ১৬, ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার নতুন সমঝোতার আওতায় ইরানের অবরুদ্ধ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার তহবিল চার কিস্তিতে ছাড় করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
আলোচনা সম্পর্কে অবগত একটি পাকিস্তানি সূত্র এবং ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের সঙ্গে কথা বলা অপর একটি সূত্র এই বড় তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ছাড় করতে যাওয়া মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার হলেও এই অর্থ ছাড়ের পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত মার্কিন দাবি ইরান কতটা মানছে এবং পরমাণু আলোচনায় কতটা অগ্রগতি হচ্ছে, তার ওপর।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সমঝোতার মূল শর্ত হলো- গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথ দিয়ে কোনো রকম ফি বা শুল্ক ছাড়াই সব দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।
একইসঙ্গে আসন্ন পারমাণবিক আলোচনার চূড়ান্ত বোঝাপড়ার সঙ্গেও বিষয়টিকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে এবং এই অর্থকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক সহায়তা হিসেবে দেখানো হতে পারে।
এদিকে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল তহবিল গঠনের পরিকল্পনার খবরকে পুরোপুরি 'ভুয়া' বলে দাবি করেছেন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এ চুক্তির আওতায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকরা আবারও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে নজরদারির সুযোগ পাবেন।’
তবে সিএনএনকে দেওয়া আরেক মন্তব্যে ভ্যান্স এই সমঝোতা স্মারকটিকে 'খুবই সাধারণ একটি দলিল' বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ ট্রাম্প ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ এক ব্রিফিংয়ে বড় সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
তার মতে, ইরান মার্কিন শর্তগুলো আদৌ পূরণ করবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও এই নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
হোয়াইট হাউসের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ইতিমধ্যে সমঝোতা স্মারকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সম্পন্ন করেছে এবং চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে জেনেভায় আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।
সেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ উপস্থিত থাকবেন।
পাকিস্তানি সূত্রের তথ্যমতে, চুক্তিতে লেবানন নিয়ে একটি আলাদা অংশ রয়েছে যার অর্থ দাঁড়ায়- ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অলিখিত সবুজ সংকেত পাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগের পথ এখন আরও প্রশস্ত হয়েছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
এএন