আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুলাই ৪, ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
জুন মাসের মাত্র আট দিনের তীব্র তাপপ্রবাহে ইউরোপের তিন দেশ-ফ্রান্স, বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ডসে ৩ হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিন দেশের সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২০ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত ৮ দিন ইউরোপজুড়ে এই নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। ইউরোপের জলবায়ুর ধরন বিবেচনায় এই গরম ছিল সহ্যের অতীত। তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটিয়েছে এবং অবকাঠামোর ক্ষতি করার পাশাপাশি পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৮ দিন স্থায়ী এই তাপপ্রবাহটি ইউরোপে এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। ইউরোপের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিদদের মতে, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এই চরম আবহাওয়া তৈরি হয়েছে।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তীব্র গরমে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁরা সবাই আগে থেকেই কোনো না কোনো শারীরিক অসুস্থতা বা জটিলতায় ভুগছিলেন। এই তাপপ্রবাহের ধকল নিতে না পারার কারণেই তাঁদের মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়েছে।
নিহত ৩ হাজার ৭০০ জনের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ঘটনা ঘটেছে ফ্রান্সে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট গতকাল শুক্রবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে জানান, জুন মাসের আট দিনের তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে অতিরিক্ত ২ হাজার ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এবারের তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ৪৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের ধারণা, সরকারিভাবে আমাদের হাতে যে সংখ্যা আছে, মৃতের প্রকৃত সংখ্যা আসলে তার চেয়েও বেশি।
এদিকে বেলজিয়ামের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ১৮ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত ১১ দিনে দেশটিতে ১ হাজার ২০০টি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই মৃতদের মধ্যে ৫৩০ জনের বয়স ৮৫ বছর বা তার বেশি, ১৮০ জনের বয়স ৬৫ বছরের কম এবং বাকিরা ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে। এক বিবৃতিতে বেলজিয়ামের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এই মাত্রার অতিরিক্ত মৃত্যু আমাদের দেশে অভূতপূর্ব ঘটনা। এর আগে কোনো গ্রীষ্মকালে এত বেশি মৃত্যু ঘটেনি।
অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জুন মাসের ওই আট দিনের তাপপ্রবাহে সেখানে ৪৮০টি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৃতদের অধিকাংশের বয়সই ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে।
জেএইচআর