আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুলাই ৯, ২০২৬, ০৭:২০ এএম
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই আবারও ইসরাইলের প্রতি তার দৃঢ় সমর্থনের কথা তুলে ধরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘জায়নবাদী রাষ্ট্রপ্রধান’ বলে উল্লেখ করেন।
ইয়েশিভা ইউনিভার্সিটিতে দেওয়া ভাষণে মিলেই বলেন, ইসরাইলের প্রতি তার অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা হলেও তিনি নিজের নীতিতে অনড়। সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইসরাইলের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই অনেকে তার বিরোধিতা করছেন, তবে এতে তার অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না।
বক্তব্যে তিনি পশ্চিমা সভ্যতার ভিত্তি হিসেবে জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারের কথা উল্লেখ করেন। তার দাবি, এসব মূল্যবোধের শিকড় তোরাহ ও বাইবেলের শিক্ষায় নিহিত। তিনি বলেন, ধর্মীয় গ্রন্থগুলো মানুষের জন্য এমন কিছু নৈতিক নির্দেশনা দিয়েছে, যা সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় আজও গুরুত্বপূর্ণ।
মিলেই আরও বলেন, চুরি ও হত্যার মতো অপরাধকে ধর্মীয় শিক্ষায় স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এসব নীতিই আধুনিক সভ্যতার নৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলেছে। তার মতে, নৈতিক মূল্যবোধ আপেক্ষিক হতে পারে না; কিছু মৌলিক নীতি রয়েছে, যেগুলো কখনোই বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়।
নিজেকে অ্যানার্কো-ক্যাপিটালিস্ট মতাদর্শের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মিলেই দীর্ঘদিন ধরেই ইহুদি ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি ইহুদি ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং তাদের কাছ থেকে পরামর্শও নিয়েছেন।
২০২৩ সালের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনেন মিলেই। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার নীতি গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরও করেন ইসরাইলে। সে সময় তিনি জেরুজালেমের ওয়েস্টার্ন ওয়াল পরিদর্শন করেন এবং দেশটির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি আর্জেন্টিনার দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের ইচ্ছার কথাও জানান, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।
এএন