নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই ৯, ২০২৬, ০৭:২৫ এএম
গ্রামাঞ্চলে চলমান বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। তিনি বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে নিজ এলাকায় গেলে সাধারণ মানুষের নানা প্রশ্ন ও অভিযোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা জনপ্রতিনিধিদের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।
বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপনকালে জামালপুর-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য তার নির্বাচনী এলাকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল জানান, মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলায় পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪৩ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ২৭ মেগাওয়াট। আবার অফ-পিক সময়ে ৩৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মিলছে প্রায় ২৫ মেগাওয়াট। ফলে এলাকায় গড়ে ৩৪ থেকে ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।
তিনি সরকারের কাছে জানতে চান, এই সংকট কাটিয়ে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ কবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং স্থানীয় গ্রাহকরা কবে লোডশেডিং থেকে স্বস্তি পাবেন।
জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নয়নে নতুন ট্রান্সমিশন লাইন নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতা ছিল। বিশেষ করে জয়দেবপুর-শম্ভুগঞ্জ ট্রান্সমিশন লাইনের একটি অংশে জমি-সংক্রান্ত মামলার কারণে কাজ বিলম্বিত হয়। যদিও সরকার মামলায় জয়ী হয়েছে, তবুও স্থানীয় কিছু জটিলতার কারণে পুরোপুরি কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সহযোগিতা পাওয়া গেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ময়মনসিংহ অঞ্চলের পাশাপাশি জামালপুরের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতিতেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
এএন