আমার সংবাদ ডেস্ক
জুন ২৯, ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা সীমিত করার বিধান কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (২৯ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মোহাম্মদ আশিফ হাসানের বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
বাংলাদেশের কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দায়ের করা একটি জনস্বার্থমূলক রিট আবেদনের শুনানিতে এ রুল জারি করা হয়।
রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। এতে মন্ত্রীপরিষদ সচিব, আইন সচিবসহ মোট ১২ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
রুলে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ৪৬(২) ধারা এবং ৪৬(১)-এর প্রভিসো এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস-এর ১৯৭ নং রুল মাতৃত্বকালীন ছুটি ও মাতৃত্ব সুবিধা সীমিত করে কেন সংবিধানের ৭, ১৫, ১৮, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না এবং তা কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া সরকার কেন সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের সকল কর্মজীবী নারীর জন্য সমান মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা ও মাতৃত্ব সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং কেন এ বিষয়ে একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে না-তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
রিট আবেদনে বলা হয়, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা কোনো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নয়; এটি মা ও নবজাতকের মৌলিক স্বাস্থ্য, মর্যাদা, সমতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে এই অধিকার থেকে একজন কর্মজীবী নারীকে বঞ্চিত করা বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানপরিপন্থী। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন ভিন্ন নীতিমালা থাকায় কর্মজীবী নারীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে, যা সমতা ও আইনের সমান সুরক্ষার নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, দেশের সকল কর্মজীবী নারীর জন্য বৈষম্যহীন ও সমান মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করতেই এই রিট করা হয়েছে। তাঁর মতে, মাতৃত্ব কোনো শাস্তির বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়।
এম জি