আমার সংবাদ ডেস্ক
জুন ২৮, ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত দুই ব্যক্তি হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরেকজনকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি শফিউল আলম এবং বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। তিনজনই পলাতক। এর আগে চানখাঁরপুলে সংঘটিত আরেকটি মামলাতেও হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল। এছাড়া রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে রায় ঘোষণার আগে সকাল ১১টা ২৪ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে রায় পাঠ শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে আদালত বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সবগুলো অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। বিচারিক পর্যবেক্ষণে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই এ বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছে। পলাতক আসামিদেরও আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বিচারপ্রক্রিয়ায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য গণমাধ্যমের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকায় তিনটি পৃথক ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। প্রথম ঘটনায় দুপুরে মো. নাদিম হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় ঘটনায় একই এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেন নামে এক তরুণকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তৃতীয় ঘটনায় বিকেলে বনশ্রী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু বাসিত খান মুসাকে লক্ষ্য করে ছোড়া গুলি তার দাদি মায়া ইসলামকে বিদ্ধ করলে তিনি নিহত হন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩১ জুলাই ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেয়। পরে প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে ৭ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় গত বছরের ২৩ অক্টোবর এবং তা শেষ হয় চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। প্রথমে গত ৪ মার্চ রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পর তা স্থগিত করা হয়। পরে ১৫ জুন ট্রাইব্যুনাল ২৮ জুন রায় ঘোষণার নতুন তারিখ নির্ধারণ করে।
এএন