ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
ভোটের দোরগোড়ায় বাংলাদেশ

লুণ্ঠিত অস্ত্রের ‘বিষফোড়া’ ও নির্বাচনের নিরাপত্তা সংকট

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম

লুণ্ঠিত অস্ত্রের ‘বিষফোড়া’ ও নির্বাচনের নিরাপত্তা সংকট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ এর দামামা বাজছে দেশজুড়ে। রাজপথে রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি এখন জনমনে বড় এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে অবৈধ অস্ত্র। বিশেষ করে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা ও কারাগার থেকে লুণ্ঠিত হওয়া অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার না হওয়ায় আসন্ন নির্বাচন কেন্দ্রিক নিরাপত্তার সমীকরণগুলো জটিল হয়ে উঠছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, লুণ্ঠিত অস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। যা দিয়ে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বা টার্গেট কিলিং এর আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আলোচিত হত্যাকাণ্ড এবং ডাকাতির ঘটনায় অত্যাধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এই উদ্বেগ এখন বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে। কেবল লুণ্ঠিত অস্ত্রই নয়, সীমান্ত গলিয়ে আসা জার্মানির তৈরি অত্যাধুনিক পিস্তল উদ্ধার নিরাপত্তা বাহিনীর কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করে দিয়েছে।

কোথায় সেই ১,৩৩২টি আগ্নেয়াস্ত্র? পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানের চরম অস্থিরতার সুযোগে সারা দেশের বিভিন্ন পুলিশ স্টেশন ও কারাগার থেকে মোট ৫,৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুণ্ঠিত হয়েছিল। এর সাথে ছিল প্রায় সাড়ে ৬ লাখ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ। দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান অভিযানে এ পর্যন্ত ৪,৪৩১টি অস্ত্র এবং প্রায় ৪ লাখ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

তবে উদ্বেগের জায়গাটি হলো সেই ৩০ শতাংশ অস্ত্র যা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই তালিকার মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত মারণঘাতী এবং স্বয়ংক্রিয় সব অস্ত্র। যার মধ্যে রয়েছে ১১৪টি চাইনিজ রাইফেল, ৩১টি চাইনিজ এসএমজি, ২০৭টি ৭.৬২ এমএম পিস্তল, ৪৫৫টি ৯ এমএম পিস্তল এবং ৩৯৩টি শটগান। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, একটি ছোটখাটো গৃহযুদ্ধ বা বড় আকারের নাশকতা চালানোর জন্য এই পরিমাণ অস্ত্রই যথেষ্ট।

অপরাধের নতুন গতিপ্রকৃতি সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অপরাধ জগতের ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনীর ৯ম পদাতিক ডিভিশন তল্লাশি চালিয়ে জার্মানির তৈরি একটি অত্যাধুনিক পিস্তল উদ্ধার করে, যা সাধারণত বাংলাদেশে পেশাদার অপরাধীদের হাতে সচরাচর দেখা যায় না। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লুণ্ঠিত অস্ত্রগুলো এখন হাতবদল হয়ে পেশাদার খুনি এবং পেইড কিলার বা ভাড়াটে খুনিদের হাতে চলে গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশেষজ্ঞ ডক্টর মো. তৌহিদুল হক এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, যারা অস্ত্র লুট করেছে, তারা হয়তো সেগুলো সরাসরি ব্যবহার করছে না। বরং অপরাধের সুবিধাভোগী বা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকরা এই অস্ত্রগুলো সংগ্রহ করে তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে টার্গেট কিলিং করাচ্ছে। ফলে মূল অপরাধীরা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। এই অদৃশ্য হাতগুলোই এখন নির্বাচনের পরিবেশকে বিষিয়ে তোলার সক্ষমতা রাখে।

পুলিশের অগ্রাধিকার বনাম বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এখন তাঁদের জন্য সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, আমরা গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াচ্ছি এবং অভিযানগুলো আরও জোরালো করছি। এছাড়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতাদের জন্য বিশেষ পুরস্কারও ঘোষণা করা হতে পারে।

তবে মাঠপর্যায়ে পুলিশ বাহিনীর মনোবল পুরোপুরি ফিরে না আসা এবং সোর্স নেটওয়ার্ক দুর্বল হওয়ার কারণে এই অভিযানে কাঙ্ক্ষিত গতি আসছে না বলে মনে করছেন অনেকে। যদিও পুলিশ বলছে নির্বাচনের আগেই তারা বড় একটি অংশ উদ্ধার করতে সক্ষম হবে, কিন্তু বিশ্লেষকরা এই আশ্বাসে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না।

নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ ও প্রার্থীদের আতঙ্ক একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো প্রতিটি প্রার্থীর জন্য সমান এবং নিরাপদ ক্ষেত্র বা লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করা। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে টার্গেট কিলিং এর ঘটনা ঘটছে, তাতে প্রার্থীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। লুণ্ঠিত অস্ত্রের ৩০ শতাংশ যদি উদ্ধার না হয় এবং সেগুলো যদি কোনো একটি পক্ষ ব্যবহার শুরু করে, তবে নির্বাচনের দিন বা তার আগে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা থেকেই যায়।

ডক্টর তৌহিদুল হক কড়া ভাষায় বলেন, কেবল অভিযানের গালভরা নাম দিলেই হবে না, সেটার কঠোর বাস্তবায়ন দেখাতে হবে। সোর্সগুলো যদি কাজ না করে, তবে অভিযান সফল হবে না। এই অস্ত্রগুলোর কারণে যদি নির্বাচনে কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়, তবে তার দায়ভার প্রশাসন এড়াতে পারবে না।

লজিস্টিক সংকট ও বাহিনীর মনোবল গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে পুলিশের চেইন অব কমান্ড এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কাজের গতিতে যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা যায়নি। লুণ্ঠিত অস্ত্রগুলো উদ্ধারের জন্য দরকার নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য এবং সাহসিকতাপূর্ণ অপারেশন। 

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল চাঙ্গা করা এবং সোর্স নেটওয়ার্ককে নতুন করে সক্রিয় করা না গেলে এই নিখোঁজ অস্ত্রগুলো টাইম বোমার মতো কাজ করবে।

সম্প্রতি কুমিল্লা মুরাদনগরে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র র‍্যাব উদ্ধার করতে পারলেও, দেশের দুর্গম এলাকা বা অপরাধীদের গোপন ডেরায় আরও কী পরিমাণ অস্ত্র লুকিয়ে আছে, তা এখনো অজানা। গণতন্ত্রের উৎস হলো নির্বাচন, আর সেই নির্বাচনের শত্রু হলো অবৈধ অস্ত্র। যদি ১,৩৩২টি লুণ্ঠিত অস্ত্রের হদিস না পাওয়া যায়, তবে সাধারণ ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে যেতে পারবেন কি না সেই প্রশ্নটি বড় হয়ে উঠছে।

নির্বাচন কমিশনের উচিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া, যাতে বিশেষ অভিযান বা ক্র্যাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে এই ৩০ শতাংশ অস্ত্রের বড় অংশই দ্রুততম সময়ে উদ্ধার করা যায়। অস্ত্রের গর্জন নয়, ভোটের উৎসবে জনগণের রায়ের প্রতিফলন দেখতে চায় বাংলাদেশ। আর সেই লক্ষ্যে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারই এখন ২০২৬ এর নির্বাচনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

জেএইচআর

Link copied!