আমার সংবাদ ডেস্ক
জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে জড়িত অপরাধের অধিকাংশ ঘটনাই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয় বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২৫ সালের এক বছরের পুলিশের নথি পর্যালোচনার ভিত্তিতে আজ সোমবার প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে সারা দেশে সংখ্যালঘু-সংশ্লিষ্ট মোট ৬৪৫টি ঘটনার তথ্য পুলিশের নথিতে পাওয়া গেছে। তবে তথ্য-উপাত্তের প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এর মধ্যে মাত্র ৭১টি ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উপাদান রয়েছে। বাকি ৫৭৪টি ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক নয় বরং সাধারণ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
সাম্প্রদায়িক ও সাধারণ অপরাধের পার্থক্য অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, ৭১টি সাম্প্রদায়িক ঘটনার মধ্যে প্রধানত ধর্মীয় উপাসনালয় ও প্রতিমা ভাঙচুর বা অবমাননার বিষয়টি ছিল। এর মধ্যে মন্দির ভাঙচুরের ৩৮টি, মন্দিরে অগ্নিসংযোগের ৮টি, ১টি হত্যাকাণ্ড এবং চুরির ১টি ঘটনা অন্তর্ভুক্ত। এসব ঘটনায় মোট ৫০টি মামলা হয়েছে এবং ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ৫৭৪টি ঘটনাকে অসাম্প্রদায়িক বা সাধারণ অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলোর নেপথ্যে রয়েছে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ, জমিসংক্রান্ত দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, চুরি, যৌন সহিংসতা এবং ব্যক্তিগত শত্রুতা। এই তালিকায় ১৭২টি অস্বাভাবিক মৃত্যু, ১০৬টি চুরি, ৫৮টি ধর্ষণ এবং ২৩টি ভূমি বিরোধের মতো ঘটনা রয়েছে। এসব ঘটনায় ৩৯০টি নিয়মিত মামলা ও ১৫৪টি অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে এবং মোট ৪৯৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভ্রান্ত তথ্য প্রতিরোধের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, এই পার্থক্যটি বোঝা অত্যন্ত জরুরি। যদিও প্রতিটি অপরাধই উদ্বেগজনক এবং জবাবদিহিতা দাবি করে, তবে পরিসংখ্যান বলছে সংখ্যালঘু ভুক্তভোগীদের অধিকাংশ ঘটনাই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ থেকে ঘটেনি। সঠিক শ্রেণিবিন্যাস বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করে।
সরকার স্পষ্ট করেছে যে, বাংলাদেশে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। প্রতিটি সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা। বিচ্ছিন্ন কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে প্রতিদিন উন্নতির পথে রয়েছে বলে পোস্টে দাবি করা হয়।
জেএইচআর