আমার সংবাদ ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে তাঁর অবস্থান এবং সেখানে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কাটাতে সম্প্রতি তথ্য প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। গত বুধবার বিকেলে মাহদী হাসান বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন।
উল্লেখ্য, মাসখানেক আগে একটি ভিডিওর সূত্র ধরে মাহদী হাসান আলোচনায় আসেন। সেখানে তাঁকে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় বসে বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে দেওয়া এবং এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে আগুনে পুড়িয়ে মারার বিষয়ে কথা বলতে দেখা যায়।
এই বক্তব্যের জেরে গত জানুয়ারিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে তিনি মুক্তি পান। সম্প্রতি তিনি পর্তুগালের ভিসা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে দিল্লিতে যান।
দিল্লির কনট প্লেসে একটি বেসরকারি ভিসা সেন্টারে অবস্থানকালে জনৈক ব্যক্তি মাহদী হাসানকে চিনে ফেলেন এবং তাঁর একটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। বিষয়টি ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নজরে এলে তাঁরা সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, মাহদী হাসানকে কোনো শারীরিক নিগ্রহ করা হয়নি। তবে তাঁকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, ভারতবিরোধী মন্তব্যকারী এবং কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার দাবিদার ব্যক্তিকে ভারতে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে না।
তদন্তে জানা যায়, মাহদী হাসান ও তাঁর এক আত্মীয়া দিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকার একটি হোটেলে উঠেছিলেন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই তাঁর ফোনে অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল আসতে শুরু করলে তিনি পরিস্থিতি আঁচ করতে পারেন।
সূত্রমতে, তিনি আশ্রয়ের খোঁজে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে গেলেও কেউ তাঁকে রাখতে রাজি হয়নি। পরবর্তীতে তিনি বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি হোটেলে স্থানান্তরিত হন এবং রাতেই তাঁর ভারতের ভিসা বাতিল করা হয়।
বুধবার দুপুরে ইন্ডিগোর ফ্লাইটে ঢাকা ফেরার কথা থাকলেও দিল্লি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়। ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, একজন হিন্দু পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার প্রকাশ্য ঘোষণা এবং ভারতবিরোধী অবস্থানের কারণে তাঁকে প্রায় আধঘণ্টা জেরা করা হয়। তবে কর্মকর্তারা একে 'শান্তিপূর্ণ জিজ্ঞাসাবাদ' বলে উল্লেখ করেছেন।
বাংলাদেশে ফেরার পর মাহদী হাসান অভিযোগ করেন, তাঁকে দিল্লিতে প্রচণ্ড হয়রানি করা হয়েছে এবং তিনি জীবনের ঝুঁকিতে ছিলেন।
তবে তাঁর কাছে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টো-কারেন্সি থাকার দাবিকে তিনি ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দেন। ঢাকায় নামার পর বিমানবন্দরেও তাঁকে এক দফা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়। পরবর্তীতে ক্লিয়ারেন্স পেলে তিনি সেখান থেকে চলে যান।
জেএইচআর