আমার সংবাদ ডেস্ক
মে ৯, ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন আশার খবর মিলেছে। শুধু কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই নন, নতুন সুবিধার আওতায় আসছেন অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীরাও। জাতীয় বেতন কমিশনের প্রাথমিক সুপারিশে বলা হয়েছে, কম আয়ের পেনশনভোগীদের মাসিক পেনশন বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করা হতে পারে। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা, টিফিন ভাতা ও শিক্ষা ভাতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যস্ফীতির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার তিন ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। এ লক্ষ্যে পুনর্গঠিত পে-স্কেল কমিটি সুপারিশ তৈরির কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, খুব শিগগিরই এসব প্রস্তাব সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা দেওয়া হবে।
পেনশন বাড়ানোর প্রস্তাব
প্রাথমিক সুপারিশ অনুযায়ী, যেসব পেনশনভোগীর মাসিক পেনশন ২০ হাজার টাকার নিচে, তাদের পেনশন শতভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ তারা বর্তমানে যে পরিমাণ পেনশন পাচ্ছেন, তা দ্বিগুণ হতে পারে।
এ ছাড়া ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পান এমন ব্যক্তিদের জন্য ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাড়ছে বিভিন্ন ভাতা
নতুন বেতন কাঠামোয় বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বর্তমানে থাকা ২০০ টাকার টিফিন ভাতা বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব এসেছে।
সন্তানদের শিক্ষা ভাতাও বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে মাসিক ১ হাজার ৫০০ টাকা শিক্ষা ভাতা দেওয়া হলেও নতুন প্রস্তাবে তা ২ হাজার টাকায় উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে।
ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রাথমিকভাবে মূল বেতনের একটি অংশ বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার খসড়া বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তবে পুরো ভাতা কাঠামো ২০২৮-২৯ অর্থবছরের আগে সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার ধাপে ধাপে নবম পে-স্কেল চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পুনর্গঠিত কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারে।
এম জি