ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী

আনসার ও ভিডিপিকে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সফিপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

সফিপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

মে ২০, ২০২৬, ১১:১৮ এএম

আনসার ও ভিডিপিকে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি (গ্রাম প্রতিরক্ষা দল) সদস্যদের সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা বজায় রেখে এবং কঠোরভাবে ‘চেইন অব কমান্ড’ বা আদেশ পরম্পরা অনুসরন করে দেশের কল্যাণে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান।

বুধবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমি’ প্রাঙ্গণে বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ (ন্যাশনাল র‍্যালি) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শৃঙ্খলাহীনতা যেকোনো বাহিনীর জন্য জনসাধারণের আস্থা সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ডই মূল ভিত্তি

সমাবেশে উপস্থিত আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, যেকোনো দেশে, যেকোনো শৃঙ্খলাপূর্ণ বাহিনীর জন্য ‘চেইন অব কমান্ড’ এবং ‘শৃঙ্খলা’ বজায় রাখা একটি অপরিহার্য এবং বাধ্যতামূলক নীতি। যদি এই দুটি ক্ষেত্রে সামান্যতম অবহেলা বা বিচ্যুতি ঘটে, তবে কোনো বাহিনীই প্রকৃত অর্থে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে না।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে, একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলার অভাব বা শিথিলতা দেখা দিলে তা জনগণের মনে ওই বাহিনীর সামগ্রিক সক্ষমতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর সংশয় এবং আস্থা সংকটের জন্ম দেয়। তাই প্রতিটি সদস্যকে এই গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিটি সবসময় হৃদয়ে গভীরভাবে ধারণ করতে হবে এবং যেকোনো মূল্যে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে।

৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান এবং আনসার-ভিডিপির ভূমিকা

প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন ও সংকটময় সময়ে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের বীরত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দেশের এক চরম ক্রান্তিলগ্নে যখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন পুলিশ স্টেশন পাহারা দেওয়া, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করা এবং রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা কেপিআই ,সমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, অতীতের ন্যায় আগামীতেও এই বাহিনী ত্যাগ, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং গভীর দেশপ্রেমের মাধ্যমে ভবিষ্যতে একটি প্রযুক্তি-ভিত্তিক ও মানবিক সামাজিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

তৃণমূল উন্নয়ন ও সামাজিক পরিবর্তনের হাতিয়ার

প্রধানমন্ত্রী তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যে আনসার ও ভিডিপির বর্তমান বহুমাত্রিক ও জনমুখী কাঠামোর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, থানা ও উপজেলা আনসার এবং ভিডিপি-টিডিপি সমন্বয়ে গঠিত এই বিশাল কাঠামো দেশের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং তৃণমূল পর্যায়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এক যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছে। এই অনন্য সাংগঠনিক কাঠামোর কারণেই আজ আনসার ও ভিডিপি দেশের একটি কেন্দ্র থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত অন্যতম বৃহত্তম ও গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক নাগরিক সেবা প্রদানে এই বাহিনীর সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাই নয়, বরং এই বাহিনী সমাজ থেকে বাল্যবিয়ে রোধ, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী সামাজিক ক্যাম্পেইন পরিচালনা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নৃ-গোষ্ঠী ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে অনন্য ভূমিকা পালন করছে। ফলে এই বাহিনী কেবল নিরাপত্তারক্ষী হিসেবেই নয়, সমাজের ইতিবাচক রূপান্তরের অন্যতম প্রধান মাধ্যম বা ‘এজেন্ট অব সোশ্যাল চেঞ্জ’ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।

আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে বাহিনীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য বর্তমান সরকারের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান যুগে বিশ্ববাজারের সাথে সংগতি রেখে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের বহুমাত্রিক ও চাহিদানুযায়ী আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। 

যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: 

  • জাপানি ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ (যাতে সদস্যরা আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখতে পারেন)।
  • ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল মার্কেটিং (তরুণ সমাজ ও সদস্যদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে)।
  • ৬জি (6G) ওয়েল্ডিং প্রশিক্ষণ (উচ্চ প্রযুক্তির কারিগরি দক্ষতা অর্জন)।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, এই ধরণের যুগোপযোগী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপগুলো আনসার ও ভিডিপির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে দেশ ও বিদেশের মাটিতে আরও সুদৃঢ় ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাবে।

দুর্যোগে অগ্রগামী 'ফার্স্ট রেসপন্ডার'

প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট যেকোনো দুর্যোগে আনসার ও ভিডিপি সবসময় জনগণের পাশে থেকে এক বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য স্বেচ্ছাসেবী শক্তি হিসেবে কাজ করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের এই ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, বন্যা, অগ্নিকাণ্ড এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এই বাহিনীর সদস্যদের অসীম সাহসিকতা, দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা এবং মানবিক দায়বদ্ধতা সত্যিই সর্বস্তরের মানুষের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

পাশাপাশি, টেকসই পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে বাহিনীর নেওয়া বিভিন্ন সবুজ উদ্যোগ যেমন- বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ  সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন এবং বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট নির্মাণের প্রশংসা করেন তিনি।

 ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে অনন্য সাফল্য

ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আনসার ও ভিডিপির অভাবনীয় সাফল্যের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাহিনী ক্রীড়াক্ষেত্রে অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে আসছে। ৫ম, ৬ষ্ঠ এবং ৭ম বাংলাদেশ গেমসে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য গৌরব অর্জন করায় এই বাহিনীকে ২০০৪ সালে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’-এ ভূষিত করা হয়েছিল।

ক্রীড়াবিদদের পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া ইভেন্টগুলো যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হতে পারে, সেজন্য বর্তমান সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের ১০টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে ৩৭৯ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্যকে মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ক্রীড়াকে পূর্ণাঙ্গ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে সরকার একটি নির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর আওতায় 'স্পোর্টস কার্ড' ব্যবস্থা চালু করেছে। ইতিমধ্যে আনসার ও ভিডিপির ১৫ জন কৃতি ক্রীড়াবিদকে এই সরকারি 'স্পোর্টস কার্ড' প্রদান করা হয়েছে।

মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা

বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই বাহিনীর অবিস্মরণীয় অবদানের কথা অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এই বাহিনীর তৎকালীন প্রায় ৪০,০০০ সদস্য নিজেদের থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল হাতে বীরত্বের সাথে অংশ নিয়েছিলেন এবং দেশের স্বাধীনতার জন্য ৬৭০ জন সদস্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে শহীদ হয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শহীদদের পবিত্র আত্মার মাগফিরাত ও চিরন্তন শান্তি কামনা করেন।

আনুষ্ঠানিক ভাষণ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনসার-ভিডিপি একাডেমির অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্বাবলম্বী ও উৎপাদনশীল ইউনিটসমূহ ঘুরে দেখেন। তিনি একাডেমির তাঁত ও বয়ন শিল্প ইউনিট, মৃৎশিল্প বা পটারি ইউনিট, গবাদি পশুর খামার এবং আধুনিক জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি আনসার ও ভিডিপির সদস্যদের কর্মপদ্ধতি, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং মাঠপর্যায়ে তাদের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

আজকের এই বর্ণাঢ্য রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জনাব জহির উদ্দিন স্বপন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব হাবিবুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকের-উজ-জামান, স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ।

এর আগে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী একাডেমি প্রাঙ্গণে অবস্থিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন।

এএন

Link copied!