নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই ৯, ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংলাপে সম্পূর্ণ খোলামেলা ও স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। রাজনৈতিক মহলে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘বন্ধু’ হিসেবে প্রচার করার যে গুঞ্জন রয়েছে, তা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু নন, তবে একজন একনিষ্ঠ রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সুদৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয় গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিজের ব্যক্তিগত সম্পদ এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখেন তিনি।
গণমাধ্যমে ও রাজনৈতিক আলাপে ছড়ানো গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বলেন, আমাকে প্রায়শই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আমি আজ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এবং দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই—আমি প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু নই।
এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মাঝে একটি বড় বয়সের ব্যবধান বা ‘গ্যাপ’ রয়েছে। ফলে বন্ধুত্বের যে প্রচলিত সংজ্ঞা, তার মধ্যে এই সম্পর্কটি পড়ে না। তবে রাজনৈতিক দর্শনের জায়গা থেকে তাঁদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আমার সম্পর্ক একজন আদর্শিক ও অনুগত রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে। দলের নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়নে আমরা একসঙ্গে কাজ করছি এবং সেই জায়গা থেকেই এই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সাংগঠনিক সম্পর্ক।
প্রতিমন্ত্রী এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি একটি বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তাঁর এই বক্তব্যের কোনো খণ্ডিত বা আংশিক অংশ যেন প্রচার করা না হয়। গণমাধ্যমে যাতে তাঁর পুরো বক্তব্যটি হুবহু এবং সঠিক প্রেক্ষাপটসহ তুলে ধরা হয়, সে বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানান।
সাম্প্রতিক সময়ে নিজের ওপর আসা বিভিন্ন সমালোচনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী মোটেও বিচলিত নন বলে জানান। বরং সমালোচনাকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন। শাহে আলম বলেন, আমার নামে নানা সমালোচনা করা হচ্ছে, তবে এতে আমি বিন্দুমাত্র চিন্তিত বা শঙ্কিত নই। বরং এসব সমালোচনা আমাকে এক দিক থেকে লাভবান করেছে—এর ফলে দেশবাসীর কাছে আমার পরিচিতি আরও বেড়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, রাজনীতি করতে গেলে সমালোচনা আসবেই। কে ভালো কাজ করছেন আর কে মন্দ করছেন, তার চূড়ান্ত বিচার করার ভার জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। জনগণই শেষ পর্যন্ত সবকিছুর সঠিক মূল্যায়ন করবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।
বিগত কিছুদিন ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর সম্পদ বৃদ্ধি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন মীর শাহে আলম। সংবাদে দাবি করা হয়েছিল, প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর সম্পদ প্রায় আট গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, আমার যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব অত্যন্ত স্বচ্ছ। জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া আমার হলফনামায় সব তথ্য বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা আছে। যেকোনো নাগরিক চাইলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে গিয়ে এই তথ্য যাচাই করতে পারেন।
হলফনামার তথ্য আড়াল করে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইসির ওয়েবসাইটে তথ্য থাকা সত্ত্বেও সেগুলো গোপন করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হলো যে, প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর আমার সম্পদ আট গুণ বেড়েছে। এই ধরনের মনগড়া ও ভিত্তিহীন সংবাদ যখন দেখি, তখন স্বভাবতই খুব খারাপ লাগে।
তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার তাগিদ দেন। কোনো জনপ্রতিনিধি বা ব্যক্তিকে সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার আগে, তথ্যের সত্যতা শতভাগ যাচাই-বাছাই (ক্রস-চেক) করে নেওয়ার জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান।
বিএসআরএফ-এর এই সংলাপে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ সচিবালয়ে কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, টেলিভিশন চ্যানেল এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ-এর সভাপতি। সংলাপে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
এএন