ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

রাজনীতি কোনো পেশা নয়, বরং এটা ইবাদত: হবিগঞ্জের জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম

রাজনীতি কোনো পেশা নয়, বরং এটা ইবাদত: হবিগঞ্জের জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ শনিবার সকালে হবিগঞ্জের ঐতিহাসিক নিউ ফিল্ড মাঠে এক জনসভায় ভাষণ দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর বক্তৃতায় উঠে এসেছে রাজনীতির নৈতিক স্খলন থেকে শুরু করে চা শ্রমিকদের উন্নয়ন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য চিত্র।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা রাজনীতিকে নিজেদের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে, মূলত তারাই দেশের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, রাজনীতিকে যারা রুটি রুজির মাধ্যম বানায়, তারাই দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, লুণ্ঠন এবং মামলাবাজিতে লিপ্ত হয়। এমনকি এরা আমাদের মা বোনদের ইজ্জতের সুরক্ষাও দিতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামী রাজনীতিকে ইবাদত ও পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছে, যা কোনো ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়।

জনপ্রতিনিধিদের বিলাসিতা এবং জনগণের করের টাকার অপচয় রোধে জামায়াত আমির অত্যন্ত সাহসিকতাপূর্ণ কিছু ঘোষণা দেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে জামায়াতের কোনো সংসদ সদস্য শুল্কমুক্ত বা বিনা করের বিলাসবহুল গাড়ি সুবিধা গ্রহণ করবেন না। প্রয়োজনে তাঁরা রিকশায় চড়বেন, তবু সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে বিলাসিতা করবেন না। এ ছাড়া সরকারিভাবে সংসদ সদস্যদের যে স্বল্পমূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে ফ্ল্যাট বা বাসা দেওয়া হয়, তা জামায়াতের কেউ নেবেন না।

গাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনতে হলে বাজারমূল্যে নিজেদের উপার্জিত অর্থ দিয়েই তা কিনতে হবে। নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং তাঁদের পরিবারের আয় ও ব্যয়ের হিসাব প্রতি বছর জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে। জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। সারাদেশে বর্তমানে চাঁদাবাজি ও মায়েদের সাথে দুর্ব্যবহারের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কেউ যদি জনগণের কাছে চাঁদা দাবি করতে আসে, তবে তাঁর হাত ভেঙে দেওয়া হবে।

মায়েদের সাথে যারা বেয়াদবি করছে, তাদের আর বরদাশত করা হবে না। তিনি দাবি করেন যে বিগত সময়ের শাসকদের কারণেই দেশ আজ সন্ত্রাস ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। হবিগঞ্জের চা বাগান এবং সেখানকার অবহেলিত শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাত্রা নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যুগ যুগ ধরে চা শ্রমিকেরা হাড়ভাঙা খাটুনি দিলেও তাঁদের সন্তানরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত।

জামায়াত আমির প্রতিশ্রুতি দেন যে চা বাগানগুলোকে প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ও আধুনিক করা হবে। চা শ্রমিকদের একটি সন্তানও যাতে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটি নিশ্চিত করবে জামায়াতে ইসলামী। তাঁদের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই দেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের। এটি একটি সুন্দর ফুলের বাগানের মতো।

ইসলামের আদর্শ অনুযায়ী অন্যের ধর্মের ওপর হস্তক্ষেপ করা নিষিদ্ধ। কোনো প্রকৃত ধার্মিক মানুষ অন্য ধর্মের মানুষের ক্ষতি করতে পারে না। দেশকে আর কোনোভাবেই বিভক্ত হতে দেওয়া হবে না। অসৎ রাজনীতির কারণে যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে, তা মিটিয়ে একটি সংহতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়াই জামায়াতের লক্ষ্য। জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচন এলে অনেকেই অনেক লম্বা চওড়া প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু ভোট শেষ হলে সব ভুলে যান।

জামায়াতে ইসলামী যা বলে, তা কার্যকর করে দেখাবে। তিনি জনগণকে সাহসের সাথে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার অনুরোধ করেন। হবিগঞ্জের এই জনসভাটি কেবল একটি রাজনৈতিক শক্তির মহড়া ছিল না, বরং এটি ছিল একটি নৈতিক সংস্কারের ডাক। বিশেষ করে এমপিদের বিশেষ সুবিধা বর্জনের ঘোষণাটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

জেএইচআর

Link copied!